খিল্লি - ABP Group অনুপম

খিল্লি-আনন্দবাজার : একটি পুনরাধুনিক কর্ম
অনুপম মুখোপাধ্যায়

উৎসর্গ : রুপার্ট মারডক

এখানে এমন কোনো কথাই আমি বলছি না, যা আপনি জানেন না, বা মানেন না। হয়তো আমার চেয়ে বেশিই জানেন। তবু এগুলো কেন বলছি? বলছি কারন কাউকে এগুলো বলতে শুনছি না।, শুনি না। অথচ বলাটা জরুরি। এই কথাগুলো হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মতো। জল আছে অথবা কোহল। কিন্তু ওষুধটা প্রত্যক্ষ নেই, স্মৃতিটুকুই আছে।

কবিতার মতো, তাই না? কবিতা লিখি, কাজেই সেটাই স্বাভাবিক। বরং কিছু কথা পদ্য করেই বলি। কবিতা নয়। না না, মোটেই কবিতা নয়।

তুমি স্রেফ শুনে যাও আমি কী বলেছি
চোখ আর কান বেচে দিয়েছ আমাকে
বিনোদন নিয়ে যাও রাজনীতি ভুলে
মাথাটি ঘামিয়ে জেনো লাভ নেই কিছু
আমার বাহিরে কোনো দেশ নেই আর
কাগজে চ্যানেলে মিলে আমিই তো দেশ
ডাকিনী বানিয়ে দেব রাজার মাকেও
যদি চাই ভগবান ফৌত হয়ে যাবে
গীতা নয় বা কোরান বাইবেল নয়
আমাকে ছুঁয়েই তুমি আদালতে আছ
স্টার আসে স্টার যায় সব ঠিক থাকে
গায়কের চেয়ে বেশি গিটারের দাম
তোমাকে তোমার মতো রেখেছি আমিই
আমিই চেয়েছি তাই নায়ক হয়েছ
যদি চাই ফেলে দেব যে কোনো সময়
আনন্দবাজার আছে নজর রেখেছে
যদি চাই ঝুলে যাবে সিমা গ্যালারিতে
অবাধ্য হয়েছ খুলে ফেলে দেব ছুঁড়ে
শ্যাম যাবে কূল যাবে ফুটপাতে শোবে
মাথার খুলিটি খুলে যদি দাও উঁকি
বরং ঘুমিয়ে পড়ো ভাবনা কোরো না
ভূমিকম্প যদি হয় জানিয়ে তো দেব
স্তনের অসুখে বাড়ে প্রচ্ছদের সুখ
প্রেমপত্র কীভাবে কে লেখে ও লেখায়
প্রসাধন ঢের দামি কবিতার চেয়ে
লিঙ্গের বৃদ্ধিতে ঝরে রস বিজ্ঞাপনে
কীভাবে কোথায় পাবে বোল্ড রিলেশনস
কোমরের নীচে শুধু আছে খাজুরাহো
সেক্স আর কাম ঘেঁটে ঘ্যাঁট হয়ে আছে
লেখক তো মরীচিকা নেহাত প্রোডাক্ট
লেখার কানুন তিনি পুরোপুরি জ্ঞাত
উপন্যাস আমাদের উনি শুধু নাম
সেক্স চাই ভায়োলেন্স খাটের আওয়াজ
সাহিত্যে আসল দাম জাপানি তেলের
নুন শুধু দিতে বাকি মমতার মুখে
কত আর খেলো হব চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে
এই এক বিফলতা কাগজে চ্যানেলে
এত শক্তি ধরি তবু নই সরকার

পড়তে হয়, নইলে পিছিয়ে পড়তে হয়
একটি সংবাদসংস্থার কাজ কী হওয়া উচিত, একটি সভ্য ও শিক্ষিত দেশে? তার একমাত্র কাজ হওয়া উচিত সংবাদ পরিবেশন। খুবই নির্মোহ ও মরিচাবিহীনভাবে তাকে এই কাজটা করতে হবে। শুধু খবর দেওয়া ছাড়া আর কোনো দায় তার থাকতে পারে না। সেই খবরের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন পাঠকের উপরে বিভিন্ন হবে, স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিতভাবেই সেটা হবে, কিন্তু সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তার নেই। খবরের কাগজ নামেই সত্যে বিরাজ করে, আসলে তার জায়গাটা হল নির্ভেজাল নির্ভীক তথ্য। কোনো রং সে চড়াবে না, শুধু ফোটোটা তুলে নেবে। কিন্তু, আমরা জানি, প্রায় বিশুদ্ধ অক্সিজেনে নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বপ্নের মতোই এই ব্যাপারটা অলীক। অনেকদিনই অসম্ভব, যে কোনো দেশে। একটি সংবাদসংস্থা তো ছোট শহরের খবরের কাগজ নয়, সে একটি মহীরুহ। টিকে থাকার জন্য তার একটা অন্য স্তরের সংগ্রাম আছে। একটা সময় সে নিজেকে অপরিহার্য করে তোলার প্রক্রিয়ায় পা রাখে। অপরিহার্যতাই তখন তার বাঁচার একমাত্র শর্ত। একটা সময় সে চায় তার পাঠকই যেন হয় একমাত্র নাগরিক, বাকিরা নিছকই অবোধ জনগণ। সে দাবি করে বসে তাকে না পড়া মানেই পিছিয়ে পড়া। পিছিয়ে পড়াটা এই কারনে নয় যে, অন্যান্য খবরের কাগজের চেয়ে বেশি খবর সে দিচ্ছে, আসলে সে এখন ঠিক করে দিচ্ছে একজন নাগরিকের একটি বিশেষ মুহূর্তে কী ভাবা উচিত, কী নিয়ে ভাবা উচিত। অন্য খবরের কাগজের সেই জায়গাটা নেই। একটা সময় আসে, যখন সে নিজেকে তার রাষ্ট্রের আত্মা ভাবতে থাকে। সে জেনে গেছে, সে যা বলবে তাকেই একমাত্র যথার্থ হিসেবে কিছু লোক মেনে নেবে, বাকিরা তাদের সঙ্গে তর্ক করবে হয়তো, কিন্তু হেরে যাবে। আনন্দবাজার পত্রিকার ক্ষেত্রে ঠিক এটাই ঘটেছে, এটাই ঘটে চলেছে।
খবরের কাগজ বলেছে, এই দ্যাখ!

আমাদের একটা সমস্যা নিয়ে কেউ সম্ভবত আপতি করবেন না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই আমাদের আত্মনির্ভর যতটা সম্ভব কম হতে শেখায়। আমরা অন্যের মতামতের এঁটোকাঁটা খেয়ে ফলেফুলে থাকি, সহসা সেই আস্তাকুঁড় থেকে মুখ সরাই না। আমরা ক্লোরোফিল পেলেও, তা কাজে লাগাতে পারব না। সেই ক্ষমতা আমাদের জিন থেকে খুব সযত্নে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি গত কয়েক বছরে খুব মন দিয়ে লক্ষ্য করেছি, আজ ‘আনন্দবাজার’-এর সম্পাদকীয় পাতাটি পড়ার ক্ষমতাও আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত জনসাধারণ হারিয়ে ফেলেছেন, তাঁরা ওটাকে এড়িয়ে যান। ওটা তোলা থাকে সম্ভবত আমাদের মতো আঁতেলদের জন্য, যাতে আমরা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে পারি। বাকিরা প্রথম পাতা পড়েন, এবং প্রথম পাতার সম্প্রসারণ, তাতেই তাঁদের স্টাফরুম এবং চায়ের দোকানের কাজটা মিটে যায়।

দ্য কিংমেকার

এই বাংলায় তাঁরাই অস্তিত্ববান যাঁরা আনন্দবাজার থেকে কলকে পেয়েছেন। এই কাগজে যে নাম বেরোয় না, সেই নাম মর্গের লিস্টেও আপনি খুঁজে পাবেন না, কারন সেই নাম কোনোকালে নেই, ছিল না। মরবার আগে সেই নাম না এলেও, মরার পরে আসতেই হবে। কোনো উপায় নেই। বার্থ সার্টিফিকেট না হোক, ডেথ সার্টিফিকেটে আনন্দবাজারের ছাপটা থাকতেই হবে। বেঁচে থাকাকালীন ওই কলকে পাওয়ার একমাত্র শর্ত হল বিঘ্ন না ঘটানোর অলঙ্ঘনীয় অঙ্গীকার। আপনি গান গাইতে পারেন না, এমনকি জানেনও না, বাঙ্গালোর বা অন্য কোথাও চাকরি করতেন, সন্ধেবেলায় পার্টিতে শখের গান গেয়ে বেড়াতেন? কুছ পরোয়া নেহি, আনন্দবাজারে দু-একটা ইন্টারভিউ আর খান ত্রিশেক ছবি ছাপা হলেই আপনি হেমন্ত-মান্নার মতোই জনপ্রিয় হয়ে যাবেন। আমরা আপনাকে বাংলার এক নম্বর গায়ক বানিয়ে দেব। অথবা গায়িকা। বা হতকুচ্ছিত অভিনয় করলেও, আপনাকে বাংলার এক নম্বর নায়ক বা নায়িকা। এরপরে আপনার মধ্যে স্পর্ধার লক্ষণ দেখলে আপনার এমন একটা কৌশলী ইন্টারভিউ নেব, আপনার ইমেজের বারোটা বেজে যাবে। আপনি সিনেমা বানান, কিন্তু আদতে তা বিবিধ কালজয়ী সিনেমার অনুকরণ, টেকনিকের সঙ্গে স্টাইলের যোগটা আজও ধরতেই পারলেন না, আলমাদোভার, কিম কি দুক বা টারন্টিনোকে আপনার একটা সিনেমা দেখালে তাঁরা ওয়াক (walk নয়) করে দেবেন। তাতে ক্ষতি নেই। আনন্দবাজার আছে। আমরা আপনার লাইফস্টাইলের মহান ছবি ছাপব, আপনার মেয়েবাজির মহৎ মিথ চালু করে দেব, সিনেমা কী বানাচ্ছেন লোকে খুব একটা ভাববে না, ঠিক দেখতে চলে যাবে, এমনকি ফাঁকতালে একটা শিশুসুলভ থ্রিলার বানিয়ে একটা জাতীয় পুরষ্কার আপনি মেরে দেবেন। আমরা যখন আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছি, পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে কটা মাথা, আর সেই মাথাগুলোয় কতটুকুই বা ভারতীয় ঘিলু?
সখী, সৃজন কাহাকে বলে
আনন্দবাজার আমাদের চোখ হতে চেয়েছিল, কান হতে চেয়েছিল। পাঁচ ইন্দ্রিয়র মধ্যে এই দুটি নিয়েই তার কারবার, তার অপহরণের লোভ। সে অনেকটাই সফল হয়েছে। আমরা কোনো খেলা দেখে নিজের চোখের চেয়ে পরের দিনের আনন্দবাজারের রিপোর্টকে অধিক গুরুত্ব দিই। একটি লিটল ম্যাগাজিন কেনার কথা তখনই ভাবি যখন তার রিভিউ আনন্দবাজারের শনিবারের সংখ্যায় বেরোয়। একমাত্র তখনই। সঙ্গে সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকের কাজ হল সেই কাটিং ফেসবুকে আপলোড করা। একটি সিনেমা তখনই ভিড় পায়, যখন আনন্দবাজার তার স্তুতি করে, অথবা এমনই নিন্দা যে দেখতে লোভ হয়। আনন্দবাজার প্রভাত রায়ের মতো বস্তাপচা পরিচালককে দিয়ে ‘অকস’-এর মতো সিনেমার আলোচনা করায়, তিনি ‘অনুসন্ধান’ দেখার মানসিকতা নিয়ে তার আলোচনা করেন। আনন্দবাজারে সিনেমার আলোচনা যারা করেন, তাঁরা নিজেরাই সিনেমা বোঝেন না। এর ফলে আমাদের দর্শকরা একমাত্র গল্পকেই স্ক্রিপ্ট ভাবেন, গ্ল্যামারকে অভিনয়। কারন শতাব্দী রায়ের মতো ‘আলোচক’-রা এটুকুই তো দেখে নেবেন যে অক্ষয়কুমারের পাশে অমিতাভকে বেশি ভাল লাগল নাকি ফ্যাকাশে। এটাই আমাদের সিনেমার আলোচনা। একটু অন্যরকম সিনেমার ক্ষেত্রে ‘টেকনিকসর্বস্ব’ আর ‘প্রাণহীনতা’-র ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া কতই আশান। ফারহান আখতার-এর ‘দিল চাহতা’ হ্যায়, বা অমিতাভ-সঞ্জয় দত্তের ‘কাঁটে’-র আলোচনা মনে আছে তো? কারা যেন করেছিলেন?

সীমা

এই একটি আর্ট গ্যালারি যদি না থাকত, হয়তো সত্যিই আমাদের চিত্রকলা আন্তর্জাতিক হতে পারত। কোনো গ্যালারি প্রথমেই যদি ভেবে নেয় যে, দর্শক ছবি দেখতে পারবে না, তার চোখে প্রকৃত ছবি সইবে না, তাহলে নরক বলা যায় কাকে? এই হল সেই গ্যালারি যেখানে ছবি ঝোলানোর লোভে তরুণ শিল্পী তাঁর স্বপ্ন আর সামর্থ্যকে বলি দেন। এই হল সেই গ্যালারি, যেখানে গণেশ পাইনের মতো শিল্পীকেও সাধারণ মানে নেমে আসতে হয়, ফালতু ছবি আঁকতে হয়, তাঁর মহাভারত-সিরিজ স্মর্তব্য।

দ্বেষ

আমি ২০০৫-এর আগস্টে শেষ কবিতা লিখেছি ‘দেশ’-এ। কবিতাটির নাম ছিল ‘দুপুর’। আমার দুর্বলতম কবিতাগুলোর একটি। প্রচুর ফোন আর এসে এম এস পেয়েছিলাম। তখন তো ফেসবুক ছিল না। তারপর বুঝেছিলাম যদি ওই পত্রিকায় আমি কবিতা পাঠাতে চাই, আমাকে অন্য সব পত্রিকা ভুলতে হবে। ভুলতে হবে স্বদেশ সেন-কে। রমেন্দ্র কুমার আচার্য চৌধুরীকে। বিনয় মজুমদারের অন্তিম পর্বকে। আলোক সরকারকে। মণীন্দ্র গুপ্তকে। অমিতাভ মৈত্রকে। আমার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল না। আমি বুঝে নিয়েছিলাম, একজন তরুণ যদি জানতে চান তিনি সঠিক পথে লিখছেন কিনা, তিনি অবশ্যই ‘দেশ’-এ কবিতা পাঠাবেন। আজও আমি সেটাই মনে করি। যদি সেই কবিতা নির্বাচিত হয়, তাঁকে পথ বদলাতে হবে, নাহলে আত্মহত্যার পথেই এগিয়ে যাবেন তিনি। বিগত দশ বছরে আমি ‘দেশ’-এ একটি কবিতাও পাঠাইনি। ২০১৩-র অক্টোবরে একটি গল্প পাঠিয়েছিলাম। সেটা ২০১৪-র আগস্টে প্রকাশিত হয়। নাম ছিল ‘শত্রু’। ওই গল্পটিকে কোনো অজানা কারনে প্রত্যাখ্যান করতে ‘দেশ’ পারেনি। কিন্তু আমাকে বিন্দুমাত্র না জানিয়ে গল্পটির বেশ কিছু অংশ কেটে দিয়েছিল, সেগুলো প্রকাশিত হয়নি। সেখানে একজন বাজারি থ্রিলার-লেখকের মুখে বাজারি সাহিত্য প্রসঙ্গে কিছু উক্তি আমি রেখেছিলাম। ‘দেশ’-এর পক্ষে সেগুলো প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না। একজন গল্প লেখক-উপন্যাস লেখক ‘দেশ’-এ লখার কথা হয়তো আজও ভাবতে পারেন, কারন ওই পত্রিকা অনেক পাঠক আজও দেবে। কিন্তু কবিতা লেখার জায়গা ‘দেশ’ বহুদিনই নয়। ওখানে কবিতা ছাপা হয় না, ফসিলের বিজ্ঞাপনগুলো কবিতা হিসেবে প্রকাশিত হয়। বমি পায় না। হাসি পায়। অবশ্য এটাও উল্লেখ্য, ‘দেশ’ আমি নিই না, আমার এক বন্ধুর বাড়িতে নেওয়া হয়, সেখানেই যতটুকু দেখার দেখি। এই যদি মূলধারা হয়, তাহলে ১৯ শতকে বটতলা সাহিত্য কেন তা ছিল আ? তাদের বিক্রি তো বঙ্কিম বাবুর চেয়ে ঢের বেশিই ছিল, তাই না? আচ্ছা, কিছু-কিছু সংখ্যায় কি জ্যান্ত কবিতাও ছাপা হয়? জানতে পারলে সুখী হব। খাঁচার ভিতরে অচিন পাখির যাতায়াত সর্বদাই প্রীতিকর।

হ্যাটস অফ মমতা ব্যানার্জি

ওঁর মধ্যে আগুন আছে। সেই আগুন অনেক সময় ভুলভাল জায়গায় লেগে যাচ্ছে, দাবানল ঘটছে, অনেক কপালও হয়তো পুড়ছে। কিন্তু ওই নারীর আগুনকে, দাহ্যশক্তিকে অস্বীকার একমাত্র মূর্খরাই করছেন। এবং সেই আগুন লেগেছে আনন্দবাজারেও। মমতার উত্থানের পেছনে তার ভূমিকা সকলেই জানেন। কিন্তু আজ? তার সর্বশক্তিমানতাকে এতখানি চ্যালেঞ্জ আর অবজ্ঞা আর কেউ করতে পেরেছেন কি? মমতা কিন্তু প্রতিপদে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, রাজ্য সরকার একটা খবরের কাগজ সংস্থা নয়। সরকার তার জায়গায় আছে। আজকাল আনন্দবাজারের শিরোনামগুলো দেখলে করুণা হয়, হাতির পেছনে চলা সেই প্রাণীগুলোর মতোই যেন তার দুর্দশা আজ। আভিজাত্যের সমস্ত ভানটুকু মমতা কেড়ে নিয়েছেন তার জিভ থেকে। তিনি অভিজাত নন, এটুকুই তাঁর অস্ত্র, এই অস্ত্রেই আনন্দবাজার আজ উলঙ্গ হয়ে গেছে।

যৌনতা

আনন্দবাজার স্বয়ং এবং তার গোষ্ঠীর পত্রিকাগুলো, যেমন ‘দেশ’, ‘সানন্দা’, ‘উনিশ কুড়ি’, আর কিছু করছে না, শুধু যৌনমুক্তির ধারণাটাকে ঘুলিয়ে দিচ্ছে। কাম আর সেক্স এক জিনিস নয়, কামনা আর বাসনা এক জিনিস নয়। কিন্তু এরা যৌনাঙ্গের উত্তেজনাকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ফেলেছে। বাঙালির যৌনতার সর্বোচ্চ চূড়া ছিলেন উত্তম-সুচিত্রা, উত্তম-সুপ্রিয়া, সৌমিত্র-মাধবী, সৌমিত্র-অপর্ণা, উত্তম-অপর্ণা, শুভেন্দু-অপর্ণা। বিকিনি-সংস্কৃতির কোনো সুযোগ বা দুর্যোগ আমাদের ত্রিসীমাণায় নেই। দিঘায় যেদিন বিকিনি সুন্দরীরা রোদ পোহাবেন, মঙ্গলগ্রহে মানুষের উপনিবেশ তৈরি হয়ে যাবে। গল্পের সুড়সুড়ি দেওয়ার জায়গাগুলোকে হাইলাইট করে দেওয়া, চুমু খাওয়ার ম্যানুয়াল, প্রেমপত্র লেখার কায়দা, স্তনের সুখ-অসুখকে প্রচ্ছদকাহিনি করে দেওয়া... সত্যিই কি এতটা সস্তা করার দরকার ছিল? সত্যিই কি পাবলিক এগুলো খাচ্ছে, এই আন্তর্জালের যুগে? বিক্রি হচ্ছে কাগজগুলো? দুধের আইসক্রিমের কথা শুনে কারা অবাক হয়, যখন সানি লিওন রাজত্ব করছেন বিলবোর্ডগুলোয়? এ যৌনমুক্তি নয়, এ আরেক অবদমন, স্বাভাবিকতার, ঠিক যেমন যোনি রসস্থ থাকা সত্বেও বর ফুলশয্যার রাতে বৌয়ের পোঁদ মারতে চাইল।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি