দাঁড়িয়ে_আমি_আজও @ সুদেব ভট্টাচার্য
বাবু,
আমায় লোকে মালতী ডাকে। না,আসল নাম নয়
কেউ কেউ চামেলীও বলে, নকলই হবে বোধহয় ।
আমার ঘর এই বাজারেতে, রাতের চোরাগলিতে
কালীঘাটেও বাড়ি আমার, আঁধার শহরতলিতে
তোমার পাড়ায় থাকি আমি, নাম দিয়েছ রুবিনা
এক মেয়ে নিয়ে থাকি শুধু, পরিচয় আর জানিনা
বাবু,
আকাশে তারা উঠলে পরে আমায় ওখানে পাবে
হ্যরিকেন নিয়ে দাঁড়াই আমি।আমার সাথে যাবে?
ঘরটা আমার ছোট, তবু আরাম ষোলোআনা
একটু মানি ঝাড়লে বাবু, জমবে খানাপিনা
ঐ ওপরেই, কাঠের সিড়ি, তিন নম্বর ঘর
কত এল-গেল, মন ভোলানো এক রাত্রের বর
বাবু,
আমাকে তুমি দূর করেছ, ভাত দেবে না বলে
রাতবিরেতে ছিঁড়ে খেয়েছ, রঙ মিশানো জলে
আমার ঋতুস্রাবের দিনেও রেহাই দাওনি কেউ
কেঁদেছি একা ব্যাথায় রাতে, শাড়িতে খুনের ঢেউ
দুমুঠো চালের আশায় আমার সকাল সন্ধ্যা সমান
ভোটের কার্ডে মস্করা করে নাগরিকত্ব প্রমাণ।
বাবু,
শীত কি গ্রীষ্ম শরীরে শরীরে যৌন রোগের জ্বালা
ভাইরাস আঁচে দেহ পুড়ে যায়, জীবনের কালবেলা
আমাকে কেউ ঘরে তোলেনি, নষ্ট মেয়ে আমি
আমার সন্তান তোমারই দেওয়া, তবু তো হারামি
প্রতি রাতে এসে ধর্ষণ কর, বাবু তুমি খুব নামী
সিঁদুর চাই না বাবু আজ, টাকাটাই ভীষণ দামী
আজ,
পাড়ায় পাড়ায় জ্বলবে আলো, উমা আসবে ঘরে
আমাদের পাড়ায় আসতে কি তার ভারী লজ্জা করে?
আমরা মেয়েরা সবকিছু পারি, মহামায়ারই রূপ
আমার দুঃখে তবে কেন ওগো দশভুজা তুমি চুপ?
তোমার মুখ আলো ঝলমল, আর আমার ঘরে কালো
আমার মাটি গায়ে মেখে মাগো, তুমি তো রয়েছ ভালো।
মাগো,
তুমি শুধু বুঝি বাবুদের দেবী, আমি যে ওদের ভোগ্য
ধর্ষণও আজ সয়ে গেছে বুকে, সমাজেরই অযোগ্য
তোমার অস্ত্রে এত জং কেন, যুদ্ধ কি গেছ ভুলে?
খিদের আগুনে বেশি ধার মাগো যত না তোমার শূলে ।
আমাকে অচ্ছুত করে তুমি 'দেবী' হয়ে সুখে থেকো
এভাবেই চিরকাল পতিতারূপে প্রহসন করে রেখো।
মাগো,
তোমার শাড়ি চুমকি বসানো,গায়েতে ভরা যে সোনা
আমার মেয়ের জোটেনি জামা, তুমি কিছুটি ভেবোনা
তোমার প্যাণ্ডেলে ঝরছে খুশি, আমারটা তাই গেল
আমার রক্ত চুষে খেয়ে, মাগো তুমি যেন থাকো ভালো।
তুমি প্রসাদ ভোগে পেটটা পুরে, দশহাত দিয়ে খাও
আমি আঁধারে দাড়াই, নুনভাত চাই, আশিসটুকু দাও।
Comments