কবিতা দশক
দশটি কবিতা __ রাজেন্দ্র ভট্টাচার্য্য
-_-_-_-_-_-_-_-_-_-_-__-_-_-_-
এক
_________
গিলোটিন
___________________________
মন আমার বিরামহীন
কলমের খচখচে আর
উদয়াস্ত ফোন কলের তাড়নায়
বনবাসী রামচন্দ্র হতে চায়
কোর্ট কাছাড়ি অফিসের স্টাফ
আর মুহুরীর তাড়নায় শুধু
ধোঁয়া আর ঘামে ভার বয়ে যায়
নিজেকে মালবাহী গাধা ভাবলেও
মনে মনে সুখী হতাম একদিন
দায়ভার এড়িয়ে যাব বলে
জানি গিলোটিনে হাত রেখে
কাজ করি সব দোষ মেনে
জিভকেটে দুই কান মলে
____________________________
দুই
______________
অনুভবী একলা
____________________________
বসে আছি
প্ল্যাটফর্মে
নিরালা নির্জনে
ভৌতিক স্টেশনে
এক্সপ্রেস ট্রেনের
জেনারেল কামরায়
একটা আপার বার্থ
খুঁজে নেওয়ার
অনিশ্চিত অপেক্ষায়
ভাগ্যবান কি
শুয়ে শুয়ে যায়
ঐশ্বরিক ভালোবাসায়
কাল ভোরে
পা রেখে দোটানায়
যাব বেআক্কেল অফিসে
আক্কেল গুড়ুমের
মিসফরচুন অভ্যাসে
স্মার্টনেসের তালিম দিতে
তালিবানি ভাবনায়
জিহাদের দোটানায়
কানকাটা কামরাঙা মনে
ভীমরুল শাণ দেয়
কোণ ভাঙা হুলে
ফুটো ফুসফুসে
গোঙাতে গোঙাতে
_________________________________
তিন
____________
হুলো বিড়াল
______________________
ভাবনারা আঁকড়ে ধরে
মাছের আঁশের মতো
সময়ে অসময়ে
আঁশ তো ছাড়ানো হয়
প্রতিবার ব্যারন বারের
নীলচে আলোছায়া জালে
তবুও
পুরানো চাওয়ার ঘেরাটোপে
গন্ধরা লেপ্টেই থাকে
কুহকী মায়ায়
দরমা কাটা হুলো বিড়াল
স্বভাবে বাইরে চরে
কখনো বা হতাশায় মরে
কখনো পাতের মাছ
কখনও বা
পোষা পায়রা ধরে
__________________________
চার
__________
বৃষ্টি নামে
________________________
যখনই খনিজ লবণ ঝরে
সনাতন ধর্মের কলেবরে
পোয়াতি মেঘের আলোড়নে
বৃষ্টি এখানে তখনই নামে
অকারণ বাঁচার পরিণাম
জানা আছে কি
অমেরুদণ্ডী দেবশিশুর
বুকের রোমে লবণাক্ত ঘামে
সবুজ ঘাসের লোভ
মেটেনি কখনো
একথা আছে ছাপা
ইতিহাসের হলুদ পাতায়
শব্দের কোলাহলে
এখনো ঝরে
উদাসীন মাদকতা
ছেঁড়া দিনলিপি
সিঁথির মাথায়
প্লেটে সাজানো
ব্যক্তিগত ব্যর্থতা
ভরেছে বাঁকাচোরা গর্ত
পর্বতের আঁকে বাঁকে
এখন আর
একটুও নেই সময়
সব কিছু বোঝানোর
স্বল্পবাক চিত্রপটে
অনিশ্চিত দোটানার ফাঁকে
________________________________
পাঁচ
_______________
কেন বেঁচে আছি
______________________________________
ভাঙা হিমোগ্লোবিন আর প্লাজমায়
মিশে জেরবার
অক্সিজেন অভাবী ঠুনকো জীবনের রাশ
পাসওয়ার্ড কেটে স্প্যাম মেল ছিঁড়ে
উবে যায় চুমু খাওয়ার আবেগ
লাল মেঘ মুখো সূর্যাস্তের দেশে
বৃষ্টির জলে ঝরা কান্নার ফোঁটা
ভিজিয়ে দেয় হেমন্তের কুয়াশাভরা ওম
একমুঠো আদরের লোভে
আমার একমাত্র দাবী এখন
এগারোটা বছর আগের আমিতে
একবার ফিরে যাওয়া
নিজেকে আয়নার মুখে ফেলে
এবার একটাই প্রশ্ন ___
কেন বেঁচে আছি
_______________________________________
ছয়
________
আলাপ
____________________________
তুমুল বৃষ্টি নামুক
সঙ্গে কফি প্রেমালাপ
এসো ভাসি
ভালোবাসায়
কানে বাগেশ্রী আলাপ
______________________________
সাত
________________
রিমোট কন্ট্রোল
________________________________
বৃষ্টি দেবতার রিমোট কন্ট্রোলে
যেন কেউ খেলার ছলে
উল্টে দিয়েছে জলের কলসি হঠাৎই
বাদুড়ের ডিগবাজি
খাওয়ার তালে
সকাল থেকেই তাই
সব কেমন ভিজে ভিজে
ভিজে দুধওয়ালা
ভিজে খবরওয়ালা
ভিজে কাজের মাসি
জানলার পিঠে ভেজা
মাকড়সার জালের
জালিয়াতিও এখন শেষ
পোকা মাকড়ের আনন্দ
আর দেখে কে বলো
আমরা সবাই মেঘেই নিরুদ্দেশ
_______________________________
আট
____________
ভালো আছি
________________________________
স্মৃতিরা ক্ষত বিক্ষত পাঁপড়ি হয়ে
পড়ছে ঝরে ভেজা মনের
স্যাঁতসেঁতে বারান্দায়
রাতভর বর্ষার পরোয়া না করেই
জলফড়িঙের পায়ের ছাপ
অনুসরণের খেয়াল হল সৌদামিনীর
তার ছেঁড়া গীটারের খোলে
ঘর বেঁধে সুখে আছে
প্রজাপতির অনুরাগ
এখনও কি আছে সময়
অকারণ ভালোবাসার
সম্পর্কের রথযাত্রার দড়ি টেনে
দিশেহারা অনেকেই
শুধু একরাশ হাসিমুখ করে
মিথ্যে মিথ্যে কথার খেলা -
"ভালো আছি"
_____________________________________
নয়
________
কুরবানী
__________________________________
বিশ্বাস রোজ পড়ছে ঝরে
মেঘ ভাঙা জলের ফোঁটায়
মনের চোখে কখনো বা
তা আচমকাে দেখা যায়
মানুষের মন জয় করে
কুরবানি চলে বিশ্বাসের
চলে অন্তর্ঘাত
পর্ব ছেড়ে পর্বে
এভাবে রোজ জর্জরিত ক্ষতে
শুয়ে থাকি পাশবালিশ ছাড়াই
রু ...
জানিনা ..
কেন জীবন ছেড়ে
বারবার পালাতে চাই
______________________________
দশ
_____________
ভাসতে শেখা
_______________________
মাঝে মধ্যে
যন্ত্রণা বোধের তৃপ্তিও
অবস্থার গুণ বিশেষে
উপভোগ্য হয়
একটু অবসর ভোগের সুবাদে
বেটার হাফের বাঙ্ময় রূপ ধারণও
অসহনীয় বোধ হয়
সাইবেরিয়া গামী বাতাসের সুবাদে
মেঘ ভাঙার আগেই
ভালো সময় পরিযায়ী হয়েছে
এখন কাগজের নৌকা
আর চায়ের পাতারাও
ভাসতে শিখেছে
Comments