Posts

Showing posts from 2011

ঝালে ঝোলে অম্বলে / রাজেন্দ্র প্রসাদ

ঝালে ঝোলে অম্বলে / রাজেন্দ্র প্রসাদ আগামী কাল Eden Gardens এ ভারত-পাক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আজ অফিস থেকে দুটো টিকিট আচম্‌কা পেয়ে গেলাম। মনটা উত্তেজনায় টান টান হয়ে রয়েছে। খেলার আগাম ভবিষ্যত নিয়েও অনেক স্থানেই বিস্তর আলাপ-আলোচনা ও বাক্‌-বিতন্ডা চলছে। আমিও অফিস থেকে ট্রেনে ফিরতে ফিরতে স্থানে স্থানে আলোচনায় জড়ালাম। বাড়ি ফিরে শুতে শুতে বেশ রাতই হল। সকালে উঠেই তাড়াহুড়ো লেগে গেল। ম্যাচ ন ’ টায় শুরু হওয়ার কথা। এমনিতে কলকাতার পথে গাড়ী চালানো একপ্রকার যুদ্ধেরই মত ব্যাপার , তার উপর জানুয়ারী মাসের কুয়াশা ভরা সকাল। যাই হোক্‌, শেষ অবধি গন্তব্যস্থলে পৌছে গেলাম। আমার বসার জায়গাটা একদম সামনের দিকে ছিল। যথাস্থানে বসে পড়লাম। সাথে অনেক রকম মুখোরোচকও ছিলো। সেগুলো সময় মত ঠিক্‌ঠাক্‌ বেরিয়ে আসবে। ভালোই হয়েছে, মন-প্রান-চোখ-মুখ সবাই একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়াবে। চারপাশে জনঅরণ্য। সবাই বেশ হাসিখুশী মুখে একে অপরকে দেখছে। ইতিমধ্যে ম্যাচ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের ক্যাপ্টেন এবং তার দল টস্‌ জিতে ব্যাট করতে নেমে পরেছে। শুরুতেই পটাপট্‌ দুটো উইকেট পড়ে গেল। আমার তো মনটা ভীষণ রক...

কথা রাখিনি, রাখতে পারিনি // রাহেন্দ্র প্রসাদ

কথা রাখিনি, রাখতে পারিনি কথা আমি রাখিনি, রাখতে পারিনি। কথা কেউ রাখেনা, রাখতে পারেনা। শুন্‌তে খারাপ লাগে, তাইনা? তবুও কথাটা সত্যি। গল্পটা তবে বলি। তখন আমি খুব ছোট, পাঁচ কি ছয় হবে। চারিপাশের পরিবেশ আবছা, আলো-আধাঁরি ভাসা ভাসা মনে আছে। বাড়ির চারিপাশে ছিল অসংখ্য গাছ, জেলেরা ভোর রাতে জাল ফেলত। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে দেখতাম। কত মাছ, কত রং, কি আনন্দ তাদের! কাঁচের মতন জল আমার কী দারুণ ভালোলাগত। ভালো লাগত পুকুর পাড় দিয়ে বয়ে যাওয়া মিষ্টি হাওয়াকে, মনটা এক পলকে ভিজে যেত। আবার ভয়ও পেতাম অজানা শঙ্কায়, সাঁতার কাটতে আরো ভয় লাগত, কম্প দিয়ে যেন জ্বর আসত। কত বন্ধু ছিল আমার! বিকাল হলেই ছুটে যেতাম আমবাগানে, পুকুর ঘাটে। ব্যাঙমাছি খেলা, রঘু ডাকাত, রামায়ণের হনুমান, রবিনহুড, সবাই মিলে মিশে এক হয়ে যেতাম। কখনো পিঁপড়ে ধরে শিশিতে ভরতাম। আমবাগান, কলাবাগান, বাঁশবাগান, সবার রাজা ছিলাম আমি। সবাই ছিল আমার প্রজা। সময় থেমে রইলনা, আমিও থেমে থাকতে পারিনি। যারা আমার একমাত্র সাথী ছিল, সেই বাগান, পুকুর আর বাকি সবাইকে ফেলে রেখে এলাম অতীতের...

স্বপ্ন সমাচার // রাজেন্দ্র প্রসাদ

স্বপ্ন সমাচার বাবু শুধান, “ ওরে খগেন, কোথায় আমার জুতো? জামার বোতাম হারিয়ে গেছে, বেরিয়ে আছে সুতো ” । “ বৃথা আপ্‌নে খুঁইজ্যা মরেন তাপ্পিমারা জুতো, ঐ জোড়াখান পইরা গ্যাছেন আপ্‌নের শ্রীমান্‌ ভূতো ” । “ কোথায় গেলেন সোনার চাঁদু এই সাত-সকালে? বেঁচে যেতাম, পাজীটা যদি হস্টেলে যেত চলে। লেখাপড়ার বালাই নেই, দিন-রাত্তির খেলা, সন্ধ্যা হলেই ছাদের ঘরে বসাবে চাঁদের মেলা। আড্ডা জমাবে, তাস্‌ পিটাবে, বসাবে গানের আসর, টেবিল বাজাবে ধুম-ধাড়াক্কা, পিটাবে তব্‌লা কাঁসর। আসুক্‌ আজকে লাটের বেটা, দেখাবো ওকে মজা, বাঁদরামিতে পয়লা নম্বর, পাবে আজ ও সাজা ” । এমন সময় ভূতো ঢুকে চি ৎ কার করে বলে, “ হাতের কাছে আসা সুযোগ এমন করে ফ্যালে? ক্যাপ্টেনটা এমন গবেট, ছাড়লে সহজ ক্যাচ্‌, আজ্‌কে আমরা হেরে গেলাম সহজ ক্রিকেট ম্যাচ্‌ ” । ছেলের গলা শুনে বাবা গর্জে উঠলেন ভারী, পায়ের চটি হাতে তুলে গালে মারলেন বাড়ি। “ হতভাগা, বাঁদর ছেলে, কোথায় ছিলি বল্‌? লেখাপড়া শিকেয় তুলে, শুধুই খেলার ছল ” ? চড়া ৎ করে বজ্র পড়ে ভূতোর মাথার মাঝে, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর মেঘ গুড় গুড় সা...