ঝালে ঝোলে অম্বলে / রাজেন্দ্র প্রসাদ
ঝালে ঝোলে অম্বলে / রাজেন্দ্র প্রসাদ
আগামী কাল Eden Gardens এ ভারত-পাক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আজ অফিস থেকে দুটো টিকিট আচম্কা পেয়ে গেলাম। মনটা উত্তেজনায় টান টান হয়ে রয়েছে। খেলার আগাম ভবিষ্যত নিয়েও অনেক স্থানেই বিস্তর আলাপ-আলোচনা ও বাক্-বিতন্ডা চলছে। আমিও অফিস থেকে ট্রেনে ফিরতে ফিরতে স্থানে স্থানে আলোচনায় জড়ালাম। বাড়ি ফিরে শুতে শুতে বেশ রাতই হল।
সকালে উঠেই তাড়াহুড়ো লেগে গেল। ম্যাচ ন’টায় শুরু হওয়ার কথা। এমনিতে কলকাতার পথে গাড়ী চালানো একপ্রকার যুদ্ধেরই মত ব্যাপার, তার উপর জানুয়ারী মাসের কুয়াশা ভরা সকাল। যাই হোক্, শেষ অবধি গন্তব্যস্থলে পৌছে গেলাম।
আমার বসার জায়গাটা একদম সামনের দিকে ছিল। যথাস্থানে বসে পড়লাম। সাথে অনেক রকম মুখোরোচকও ছিলো। সেগুলো সময় মত ঠিক্ঠাক্ বেরিয়ে আসবে। ভালোই হয়েছে, মন-প্রান-চোখ-মুখ সবাই একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে দৌড়াবে। চারপাশে জনঅরণ্য। সবাই বেশ হাসিখুশী মুখে একে অপরকে দেখছে।
ইতিমধ্যে ম্যাচ শুরু হয়ে গেছে। আমাদের ক্যাপ্টেন এবং তার দল টস্ জিতে ব্যাট করতে নেমে পরেছে। শুরুতেই পটাপট্ দুটো উইকেট পড়ে গেল। আমার তো মনটা ভীষণ রকম খারাপ হয়ে গেল। ভাবলাম্, এসে বস্তে না বসতেই কি বাড়িতে ফিরে যেতে হবে!
ভাব্তে ভাব্তে একটা চিপ্সের প্যাকেট ছিঁড়ে যেই না মুখটা হাঁ করেছি, অম্নি মাথার পিছনে কে যেন একটা বিকট থাপ্পড় হাঁকাল, তার সাথে ভয়ানক বিছ্ছিরি ঘ্যাঁঘাসুর এর মতন আওয়াজ। আমিও ঘাড় ঘুরিয়ে তার চোদ্দপুরুষ এর শ্রাদ্ধ করতে উদ্যত হয়েছি, ঘুরে দেখি অবাক কান্ড! স্বয়ং ভারতের ক্যাপ্টেন আমার পাশে দন্ডায়মান!
আমার মুখের হাঁ ঠিক যেমনটি খুলেছিল, তেমন টাই রয়ে গেল, আর বন্ধ হল না। ক্যাপ্টেন আমায় নাম্তে বল্ল। আমি প্রথম ধাক্কাটা তখনো সাম্লে উঠিনি। বোকার মতন বললাম্, “আমি? কোথায় বলুন তো?” ক্যাপ্টেনের পরের কথায় তো আমার দম্ লক্ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। বলে কিনা তাদের ভাইস-ক্যাপ্টেনের ভয়ানক আমাশা হয়েছে, পেটের কামড়ে তার যায় যায় অবস্থা। এই অবস্থায় আমি ছাড়া ওদের নাকি চলবে না।
যাচ্চলে, কথার ছিরি দেখেছ একবার। আহ্লাদ খানা দেখ। বলে কিনা আমি ব্যাট করতে নাম্বো। একি পাগল না অন্য কিছু! মরি আর কি! কোনোরকমে ঢোঁক গিলে বললাম, “দেখুন, মানে, ইয়ে, আমিতো এইসব থেকে অনেক দূর দিয়ে যাই। আমি ঠিক ওইসব পারবো বলে মনে হয়না। আপনাদের তো আরো অনেক অতিরিক্ত খেলোয়াড় থাকেন, তাদের মধ্য থেকেই না হয় কাউকে বেছে নিন।
ক্যাপ্টেনের মনে হয় আমার কথাগুলো ঠিকমতন কানে গেল না, উল্টে বলল, “ওসব আমি বুঝতে পারছি না, আর বুঝতে চাইও না। আপ্নি আপনার দেশের জন্য এতটুকুও ভাব্বেন না?”
এতো দেখি মহা জ়্বালা। দেশের সব দায়ভার কি শুধু আমার একার? আশে পাশে কি আর কেউ নেই দেশের প্রেমে নিজেকে উজাড় করে দিতে পারে? তার উপর আবার আমার দেশপ্রেম নিয়ে খোঁটা? অগত্যা নাম্তেই হল। মাঠের দিকে তাকাতেই প্রাণপাখি উড়ে যাওয়ার উপক্রম হল।
দেখি দৈত্যাকৃতি একজন খেলোয়াড় তার পাশের জনকে বেশ মোটা সুরে বলছে, ‘‘বেটা হাড়গিলে পাখিটাকে দেখেছিস? আজ ওটাকে বেশ করে জবাই করা যাবে। কি বলিস?’’ অপর জনও বেশ তারিয়ে তারিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “ঠিক বলেছিস। এতো জোরে বল ছুঁড়বো যে বেটার পাঁজর ফুটো হয়ে বল বেরিয়ে যাবে। আহা, বেচারা! আজ যে ওর কি হবে!”
এইসব শুনলে আমার মত পেট-রোগা লোকের ভয় লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি নিজের মনকে শক্ত করলাম। সারা জীবন ধরে অনেক লোকের অনেক কথা শুনছি। এবার নয় আরো একটু বেশি করেই শুনবো। কিন্তু পটলডাঙ্গার টিকিট না কাটা অব্দি আজ মাঠ ছাড়বো না। আর কোনো কথা না বাড়িয়ে সোজা প্যাভেলিয়নের দিকে এগোলাম। দেখি প্যাভেলিয়নের ভিতরে বসে থাকা খেলোয়াড়গুলো সবাই আমায় নিয়ে হাসি মজা করছে। ভাবখানা এমনি, যেন কোনো পাঁঠাকে হাঁড়িকাঠে চড়ানো হবে।
সটান ড্রেসিংরুম্ এ ঢুকে পরে প্যাড-গ্লাভস্-হেলমেট আর বাকি যা কিছু পরার মতন ছিল, সব একে একে চড়িয়ে নিলাম। কেউ আমার সাথে কথা বলতেও এলোনা। বয়েই গেল আমার। আমি মোটামুটি তুলে চালাতে পারব, এমন একটা ব্যাটও জোগাড় করে নিলাম আর চারপাশে বাঁই বাঁই করে বেশ কয়েক বার ঘুরিয়ে নিলাম। ক্যাপ্টেন আমায় একপ্রকার ধাক্কা মেরে মাঠে ঠেলে দিল। আমিও শিরস্ত্রাণ টাকে ভালো করে দেখে শুনে নিলাম। আগে ভাবতাম্, ব্যাটস্ম্যান হওয়াটা বেশ সোজা। সাঁই করে আসা বল ধাঁই করে পিটিয়ে দিতে হয়, আর ব্যাটটা বগলদাবা করে পাঁই পাঁই করে দৌড় লাগাতে হয়। কিন্তু আমার সাজপোষাক তো অনেকটাই যুদ্ধের মতন। এই বেঢপ পোষাক পরে কি করে যে বাকীরা দৌড়ায়, তা ঈশ্বরই জানেন।
একেবারে যে বুকের ভিতরে ঢিপ্ ঢিপ্ করছিল না, তা নয়। মাথার ভিতরে উইপোকা গুলো কেমন যেন কিলবিল করছিল। কানের দুইপাশে অনেকগুলো গুব্রে পোকা খটর মটর করছিল। এক লহমায় যত দেব-দেবীর নাম মাথায় এল, সবাইকে একসাথে প্রণাম জানিয়ে বদ্ধভূমির দিকে দুরু দুরু পায়ে এগোতে লাগলাম। সারা জীবনে আর কি কি কাজ করা বাকী রয়ে গেল, তা নিয়ে ভাবতেই মনটা বেশ হাল্কা হয়ে গেল। দেখলাম, সেই রকম বিশেষ কিছুই আমায় হারাতে হবে না। মনে মনে নিজেকে বললাম্, ‘চল্ বেটা, আজ কিছু করে দেখাই। যা আসুক, লড়ে নেব। হয়তো আমি আগামী কাল ইতিহাসের পাতায় আরো অনেকের সাথে’।
পিচে এসে দাঁড়াতেই চারপাশের চিৎকারে মাথাটা একটু চক্কর দিয়ে উঠল। দেখি উইকেটকিপার আমার দিকে তাকিয়ে করুণার হাসি দিচ্ছে। আর বোলার এর চেহারাটা অনেকটা পাথরে কোঁদা দৈত্য। ব্যাটাকে মাঠে না নামিয়ে অসুর সাজালে ভালো লাগত। আর আমাকেও এতটা প্রাণের মায়া করতে হতোনা। মনটাকে যতটা পারি, শক্ত করে ব্যাট হাতে ক্রিজে এসে দাঁড়ালাম।
বোলার আমার দিকে এক দৌড়ে তেড়ে এল। শুনেছিলাম, এ বেটার বল নাকি জেট প্লেনের গতিতে আসে। হলোও ঠিক তাই। বোলার হাতটাকে ঘোরালো, বিদ্যুৎ গতিতে প্রায় নাকের ডগা ছুঁয়ে পোকার মতন কি যেন একটা চলে গেল। আমি চোখ বা ঘাড়, কোনোটাই নাড়ানোর সময়টাও পেলাম না। সবাই হই হই করে উঠল। উল্টোদিকের আমার সঙ্গী কি যেন একটা বলল, আমি শুনতেই পেলাম না। ঠিক করলাম, এবার বোলার যেই হাতটা ঘোরাবে, আমিও সাথে সাথে গদাম্ করে আমার হাতের গদাটা চালিয়ে দেব, তারপর যা হয় হোক। এবার বোলারটা আমার দিকে প্রায় লাল চোখ করে আবার আমার উইকেট এর দিকে দৌড় শুরু করল। তার হাত ঘুরল, আর আমার গদাটাও। কিন্তু এবারে গদাটাই আমাকে বাঁই করে ঘুরিয়ে পিচের উপর ফেলে দিল। আম্পায়ারটাও ভ্যাম্পায়ারের মতন দাঁত বার করে চোখ কটকটিয়ে বলে উঠল, “নো”।
এবার আমি সত্যি সত্যি খেপে গেলাম। বা! বেশ মজা তো! বোলারটা অত জোরে দুম্দাম্ বল ছুঁড়ে দিচ্ছে, তখন চুপ করে থাকা হচ্ছে। আর যেই আমি আত্মরক্ষা করতে গদাটা চালালাম, তখন ‘নো’; মানে ‘চলবে না’? মনটা একেবারে তিক্ত করে দিলে! কি জঘন্য আম্পায়ার! আমার সব থেকে অপ্রিয় নিমপাতাটাকেও আজ কেন জানিনা মিষ্টি মনে হল। আহা রে, এদের মিলিত চক্রান্তের চেয়ে ও অনেকগুণ ভালো।
বুঝে নিলাম, আজ সবাই আমার বিরুদ্ধে। দাঁড়াও, বাছারা। এবারে মজাটা দেখাচ্ছি। এদিকে মাথামোটা বোলারটা কেন জানিনা আরও বহুগুণ খেপে গিয়েছে। ক্রমাগত ষাঁড় এর মতন ঘোঁত ঘোঁত করে নিঃশ্বাস ছাড়ছে। গাঁক গাঁক করে আবার সে দৌড় লাগাল। বুঝলাম, এবার আর রক্ষা নেই। বলটা আগুনে গোলার মত ছিট্কে এল। আমি প্রায় চোখ বন্ধ করে গদাটা হাঁকালাম। ঘটাং করে একটা বিকট শব্দ হল। হাতটা ঝন্ঝন্ করে উঠল। চারিদিকে কান ঝালাপালা করা প্রবল চেঁচামেচি আর হৈ হৈ শোনা গেল। চোখটা খুলেই দেখি বোলার সমেত গোটা মাঠের সবাই বড় বড় চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে। ভাবলাম, ‘যাক্গে, একটা সম্মানজনক আউট হয়েই মাঠ ছাড়বো। বাঁচলাম, আর ব্যাট করতে হচ্ছেনা’।
কিন্তু, বিচিত্র এই বঙ্গে, কপাল তোমার সঙ্গে। আজ সেটা ছিল বোধকরি আমারই সঙ্গে। বলটা দেখি পাখির মতন ডানা মেলে উড়তে উড়তে গোটা স্টেডিয়ামবাসী সকলকেই চিরবিদায় জানাতে জানাতে কোথায় যেন পালিয়ে গেল। বলটাও আমায় বাঁচাল, আমিও যেন মুক্তি পেলাম। আমিও কোনো এক সময় ছোটো মাঠের ছোটো খেলোয়াড় ছিলাম। মাঠের বাইরে বল ফেলে দেওয়ার মানে আমার কাছে আউট হওয়ার সামিল। তাই স্বাভাবিক ভাবেই আমার মনে একটা আনন্দের মেজাজ এল। আবার মনে হল, এদের বলটা হারিয়ে দিলাম। এরা আবার চটে গিয়ে আমায় নতুন বল কিনে দিতে না বলে।
সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি, আমার সঙ্গী ব্যাটসম্যান দুই হাত উপরে তুলে ব্যাট নাচাতে নাচাতে আমার দিকে ধেয়ে আসছে। আবার কি কোনো গন্ডগোল পাকালাম নাকি? একবার ভাবলাম পালিয়ে যাব। আবার ভাবলাম, যা হয় হবে। যেমন আমায় ব্যাট করতে নামিয়েছে! কিন্তু একি, এতো দেখছি আমায় কোলে তুলে নিল। আবার কানের কাছে মুখটাকে এনে বলছে, “সাবাস ভাই, তুমি জানোনা, কি দারুন একটা ঘটনা আজ তুমি ঘটালে! তুমি বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান, যে ছক্কা হাঁকিয়ে Eden Gardens এর এই বিশাল স্টেডিয়াম থেকে বলটাকে বাইরে পার করে দিলে”। আমারও খুব আনন্দ হচ্ছিল। বললাম, “তাহলে কি আমি আউট হইনি”? আমার সহ-ব্যাটসম্যান এবারে আরো অবাক, “আরে সেকি কথা! তবে একটা নতুন নিয়ম এই ম্যাচ থেকে চালু হওয়ার কথা ছিল, সেটা হলে তুমি, মানে আমরা সবাই গেলাম”।
আমি আরো কিছু বলতে যাব, পিছন থেকে উইকেট-কিপার বলে উঠল, “ভাইসব, এবার আমাদের সবাইকে বলটা খুঁজতে স্টেডিয়ামের বাইরে যেতে হবে। তারপর আবার খেলা চালু হবে”। একি পাগল নাকি? বলে কি? আমরা সবাই যাব? তাহলে খেলার কি হবে? আমার সহ-ব্যাটসম্যানটি এবার জানাল, এটাই নাকি সেই নতুন নিয়ম, যেটা এই ম্যাচ থেকেই চালু হল।
“কিন্তু বলটা পাওয়া না গেলে খেলার কি হবে”?
“আমরা আধ-ঘন্টা মতন খুঁজবো, না পেলে এখানে ফিরে আসবো”। এর থেকে তো নতুন বল কিনে এনে খেলা ভালো। বলে কি এরা? এই নাকি এদের নতুন নিয়ম! আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, “ওটা কি আর পাওয়া যাবে? তার থেকে আরেকটা নতুন বলে খেলা হোক্”। আম্পায়ারটা এতক্ষণ চুপ করে আমাদের কথা শুনছিল। এবার সেও মুখ খুলল, “তা হওয়ার উপায় নেই। ওই বল ঠিক খুঁজে বার করা হবে। ওটাকে মিউজিয়াম এ রাখা হবে”। এবার আমি সত্যি সত্যি ক্ষেপে গেলাম, “তার চেয়ে যে এই কান্ডটা ঘটাল, তাকে পুরষ্কৃত করুন, সেও বাঁচে, আপনাদেরও মানরক্ষা হয়”। আম্পায়ারটা গম্ভীর স্বরে বলল, “ওসব পরের কথা। আগে আজকের দিনের জন্যে নিয়মটা মানতেই হবে, না হলে খেলা বন্ধ”।
আর কি করি, অগত্যা প্যাড-গ্লাভস্-হেলমেট খুলে বলের খোঁজে চললাম। আমার সাথে বাকী সব খেলোয়াড়, এমনকি যারা খেলা দেখতে এসেছিল, তারাও আমাদের পিছনে মিছিলের মত সারিবদ্ধ ভাবে স্টেডিয়াম থেকে বার হল। স্টেডিয়ামের পিছনে একটা অতিকায় জলাশয়। তার থেকে বেরোনো পচা পাঁক এর উৎকট ঝাঁঝালো গন্ধ আর কালো কুটকুটে জল সবাইকে কেমন যেন একটু বেশি বেশি করে ঘাবড়ে দিল। আমায় যে বল ছুঁড়ছিল, তাকে বেশ দ্বিধাহীন ভাবে বললাম, “কিছু মনে কোরো না ভাই, তোমার তো বেশ স্বাস্থবান চেহারা। তুমি আর তোমার মত বাকি সবাই ডোবাটায় নেমে পড়। আমিও তোমাদের পিছনে নামছি”। কিন্তু, পচা পাঁকের বিটকেল গন্ধ সবাইকে বেশ কাহিল করে দিল। তার সাথে যুক্ত হল মশার তান্ডব আর কুটকুটে চুলকানি।
আমি বেশ মন দিয়েই বলটা খুঁজছিলাম; হটাৎ দেখি একটা দাঁড়কাক একটু দূরের আমড়া গাছ থেকে সাঁ করে নেমে এল, আর আমার হেলমেট ছাড়া খালি মাথায় ঠকাঠক করে বেশ কয়েকটা রাম ঠোক্কর লাগিয়ে সুড়ুৎ করে পালিয়ে গেল। আমিও ‘হাঁউ মাউ কাঁউ’ করে সবে নিজেকে বাঁচাতে উদ্যত, ঠিক সেই সময় দেখি হতভাগা পালের গোদা উচ্চিংড়ে ‘বগাদা’ আমার মাথায় মনের সুখে সমানে গাঁট্টা মারছে, আর হাসতে হাসতে বলছে, “ওরে টকে যাওয়া টকদই এর মরা টিকটিকি, শিগ্গিরি ওঠ। বেলা নয়টা বেজে গেছে। আজ দেড়টা থেকে খেলা আছে না? আর পড়ে পড়ে ঘুমাতে হবে না”। আমি খাট থেকে প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম, ধড়মড় করে উঠে বসলাম। চোখ কচলাতে কচলাতে বললাম, “বলটা কি পেলি নাকি বগাদা”? বগাদাটা যেন একেবারে আকাশ থেকে পড়ল, “কোন্ বলটা? ও বুঝেছি বাছাধন, কাল রাতে ভরপেট খেয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুম মেরেছিলি। আর তাই সারারাত যত আগডুম বাগডুম স্বপ্ন দেখেছিস। কতবার বারণ করেছি, শুনবি না। সেই তোর পেট গরম হয়েছে, তোর মত হ্যাংলা প্যাংলা দের নিয়ে আর চলাই যাবেনা দেখছি”।
আমি পুরো বেকুব বনে গেলাম। একেই বলে ‘ব্যোম্কে যাওয়া’। কি ভাইসব? তোমরা কি বল? আমার জায়গায় তোমরা থাকলে কি করতে?
Comments