নারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
যাঁর কবিতা পড়লে মনে হয় স্বপ্নে পড়ছি
ওই একজন না-দেখা মানুষকে আমি গতরাত্রেই স্বপ্নে পেলাম।
দেখলাম তাঁর নারীকেও।
নোলক বলে আমরা যা জানি, তা অনেক বেশী অধিক কিছু সেই নারীকে দুলিয়েছিল।
দেখলাম তাঁর সেই পৃথিবীকেও।
সেই পৃথিবী, সেই না-দেখা মানুষের খুড়িমার মতন দেখতে।
সেই মানুষ এককালে এক কবির কাছে গিয়ে কবিগান শিখবার ইচ্ছা করলেন। তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই বলে যে, ‘এইসব শিখিতে পারা যায় না’।
ফিরে এসে তিনি এক আশ্চর্য কবি হলেন। তাঁর কবিতা পড়ে মনে এই ভাব হয় যে, এইসব আদৌ পড়িনি, স্বপ্নেই দেখেছি।
তিনি নারায়ণ মুখোপাধ্যায়
তাঁর সেই আশ্চর্য কবিতা কয়েকটি নিবেদন করব।
বলা বাহুল্য হবে না এই কথা বললে যে, এইসব কবিতা কখনোই মঞ্চে উঠে নৃত্য করে নি, পুরস্কৃত হওয়ার বাসনায়
১।
প্রত্যাগমন
এক ব্যক্তি দুঃখ হইতে ফিরিতেছিল।
তাহার সঙ্গে ছিল অসংখ্য মণিমানিক্য
এবং নানাপ্রকার ফল।
সেই প্রকার নীরব ফল আমরা কখনও খাই না।
ব্যক্তিটির সঙ্গে একদল অপরূপ সুন্দরী নারীও ছিল
তাহাদের দেখিলে পুনর্বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিবে।
কিন্তু, তাহাদের চক্ষু নাই শাদা
২।
কাহিনী
দাওয়ায় আজ পড়শীদের ভিড় –
এ-বাড়ির মাথাখারাপ মেজবউ
একখানি কাহিনী লিখে খবরের কাগজে পাঠিয়েছিল
আজ তা ছাপা হয়ে এসেছে।
তাতে এ-সংসার চিত্রিত হয়েছে।
৩।
ছোটোকাকী
একসময় এই পৃথিবীটা আমাদের ছোটকাকীর মতো ছিল।
বড় ঘরের মেয়ে, অপরূপ সুন্দরী কিন্তু মাথায় সামান্য ছিট।
৪।
হলুদ পাখি
হলুদ একটা পাখি এল। এখনও নির্বংশ হয়নি যে দুয়েকটি
এ পাখি তাদেরই একজন।
বললাম, পান খাও। খাটের নীচে দেখো, বাটা আছে,
জাঁতি দিয়ে গুয়া কেটে নাও। শামুকচুন ভালোবাসো, নিয়ো।
পাখিটা বলল, মুখে রুচি নাই, জ্বরে ভুগলাম পনের দিন।
অ্যাণ্টিবায়োটিক খেয়ে পালক ঝরে যাচ্ছে; মাথা ঘোরে,
বমি হয়; ঘুম হয় না। আকাশ হলুদ দেখি।
ওর ছোট্ট মাথাটায় বিলি কেটে দিই।
কত প্রাচীন মাথা। পাখিটা ক্রৌঞ্চকে দাহ করেছে,
যুধিষ্ঠিরের কাছে বসেছে।
বহু সান্ধ্যদীপ
কাঁপিয়ে আঁধারে উড়ে গেছে।
(আর সেই কবিতা…)
৫।
নোলক পরিয়ো
তোমার লাগিয়া এই নোলক পাঠাইলাম,
পরিয়ো। বাক্সে উঠাইয়া রাখিয়ো না।
বর্ষা আসিতেছে।
মেঘ ডাকিবে। সর্বত্র জল থৈ থৈ করিবে।
লতা দুলিবে। পাখি ভিজিবে।
নোলক পাঠাইলাম,-- পরিয়ো।
ইহা শুধু রূপের লাগিয়া নহে,
মনে রাখিয়ো।
পরিয়ো।
Comments