১৯৯৪
১৯৯৪ সাল থেকেই আমার টুক টুক করে লেখার অভ্যেস । তখন তো রুলটানা ছোট খাতায় লিখতাম । হঠাৎ স্টোর রুম ঝাড়পোঁছ করতে বসে নজরে এলো ঐ সময়ের একটা জরাজীর্ণ খাতা (সেটি গতকাল একজন কাবাড়িওয়ালা এসে তার চটের বস্তায় ভরে নিয়ে চলেও গেছে) । খুঁজে পেলাম এই লেখাটা । পড়ে প্রচন্ড হাসি এল নিজের ঐ বয়সের ভাবনা আর শব্দের উপরে । আশাকরি আপনাদেরও সেই হাসিটাই আসবে । তাই, খুব একটা ইচ্ছে না থাকলেও ঐ লেখাটিকে একেবারে অবিকৃত রেখে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করছি -
_______________________
অথঃ রাজনীতিঃ চরিতম্
---------------------------------
আমি অতি নরাধম, অধমের অধম, পাজী-নছ্ছার আমি-
আমার দ্বারা ঘটে চলে যত মাস্তানি-গুন্ডামি।
আমি রক্তপিশাচ জানোয়ার, আমি নৃশংস রাক্ষস,
তাইতো আমি সদা পরে চলি ভদ্রতার এক মুখোশ।
ব্যাংকে আমার নামে পড়ে থাকে সহস্র-কোটি টাকা,
ট্যাক্সবাবুরা হানা দিলেও, পাবে তহবিল ফাঁকা।
আমি দুষ্ট-চপল-ভন্ড এবং মহা সেয়ানা খুনী,
কত খুন যে করালাম আমি, তা বলা যাবেনাকো গুনি।
শিকার ও মেয়ে পাচারে নেইকো আমার জুড়ি,
আমার নামে কাঁপে থরথর জোয়ান-বুড়ো-বুড়ি।
দেশ-দুনিয়ার চোরাকারবার, চলে আমার দ্বারা,
শয়তান বলে মাথাটি আমার শয়তান এর কারখানা।
দেশটাকে আমি লুটেপুটে খাব, রাখব আমার দখলে,
ভোটে জিতে দাঁড়াবো বলে ঢুকেছি নোংরা দলে।
রাজনীতি আর নোংরামিতে আমার জুড়ি নাই,
পরের মাথায় হাত বুলিয়ে নিজের দিন চালাই ।।
_____________________
ঐ সময়ের আরো একটা লেখা শেয়ার করছি -
___________
স্বপ্ন সমাচার
-----------------
বাবু শুধান, “ওরে খগেন, কোথায় আমার জুতো?
জামার বোতাম হারিয়ে গেছে, বেরিয়ে আছে সুতো”।
“বৃথা আপ্নে খুঁইজ্যা মরেন তাপ্পিমারা জুতো,
ঐ জোড়াখান পইরা গ্যাছেন আপ্নের শ্রীমান্ ভূতো”।
“কোথায় গেলেন সোনার চাঁদু এই সাত-সকালে?
বেঁচে যেতাম, পাজীটা যদি হস্টেলে যেত চলে।
লেখাপড়ার বালাই নেই, দিন-রাত্তির খেলা,
সন্ধ্যা হলেই ছাদের ঘরে বসাবে চাঁদের মেলা।
আড্ডা জমাবে, তাস্ পিটাবে, বসাবে গানের আসর,
টেবিল বাজাবে ধুম-ধাড়াক্কা, পিটাবে তব্লা কাঁসর।
আসুক্ আজকে লাটের বেটা, দেখাবো ওকে মজা,
বাঁদরামিতে পয়লা নম্বর, পাবে আজ ও সাজা”।
এমন সময় ভূতো ঢুকে চিৎকার করে বলে,
“হাতের কাছে আসা সুযোগ এমন করে ফ্যালে?
ক্যাপ্টেনটা এমন গবেট, ছাড়লে সহজ ক্যাচ্,
আজ্কে আমরা হেরে গেলাম সহজ ক্রিকেট ম্যাচ্”।
ছেলের গলা শুনে বাবা গর্জে উঠলেন ভারী,
পায়ের চটি হাতে তুলে গালে মারলেন বাড়ি।
“হতভাগা, বাঁদর ছেলে, কোথায় ছিলি বল্?
লেখাপড়া শিকেয় তুলে, শুধুই খেলার ছল”?
চড়াৎ করে বজ্র পড়ে ভূতোর মাথার মাঝে,
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর মেঘ গুড় গুড় সাজে।
ভির্মি লেগে উল্টে পড়ে মাথা বন্ বন্ করে,
বাঁশ বাগানের পুঁচ্কে শিয়াল হুক্কা-হুয়া করে।
ভূতো ভাবে, কি কান্ডে বাবা আজ এত রাগে?
যে ভাবে হোক্, আজ বাবাকে আন্তে হবে বাগে।
এমন সময় ছোট্কা এসে গম্ভীর মুখে বলে,
“গান-বাজ্না-আড্ডা মেরে কোন্ ফলটা ফলে?
ভালো চাস্ তো খাতা খুলে অংক নিয়ে বস্,
না হলে স্কুলের খাতায় পাবি না দ’শে দশ।
মুদিখানার দোকান খুলে দিনরাত্তির বসে,
হিসেব-নিকেশ করতে হবে কলম ঘষে ঘষে”।
ভুতো ভাবল,‘ভালোই তো কাজ মজার দোকান্দারী,
লেখাপড়া সব চুলোয় যাবে, পড়ার সাথে আড়ি।
অংকের স্যার বটুক খুড়ো জ্বালাবেন না আর,
বই-খাতা সব জলে ছুঁড়ে হব পগাড় পার।
গুল্তি-লাটিম সব চালাবো,আকাশে উড়বে ঘুড়ি,
অবেলায় কেউ ঘুমালে এবার নাকে দেবো সুড়সুড়ি।
ইতিহাসের জাহাঙ্গীর, কিংবা প্রাচীন যুগ,
ডালের বড়া ভেজে ঠোঙায় বিক্রি করবো খুব।
বাংলা-সংস্কৃত-ইংরাজীতে চল্বে মারামারি,
ভূতো এবার মনের সুখে করবে দোকান্দারী’।
এমন সময় ‘ঘটাং’ করে বিকট শব্দ হয়,
মাথার কোণে কেমন যেন বিষম ব্যথা হয়।
গভীর ঘুম্টা ভাঙে নিমেষে বাবার মারা গাঁট্টায়,
সাধের স্বপ্ন জান্লা ভেঙে এক পলকে সট্কায়।
বটুক খুড়ো ঘরে আসেন, বলেন, “পড়্তে বস্,
না হলে এবার ঝামাটা নিয়ে কষে মগজে ঘস্।
যদি তোর বুদ্ধি-বৃত্তি একটু মাথায় আসে,
পাটীগণিতের হিসেব-নিকেশ আস্বে তবে বশে”।
ভূতো ভাবে, ‘বিষম আপদ উড়ে এসে বস্ল,
এমন সাধের স্বপ্ন আমার তারা হয়ে খস্ল।
সুখের স্বপ্ন কেন যে হায় আমারই ঘুমে আসে’?
ছোট্কা-বাবা-বটুক খুড়ো দাঁত বার করে হাসে।
Comments