বাছাই করা কিছু কবিতা

#

প্রতিপদের
একফালি জোছনায়

ফুটে ওঠা
ছাতিম হাস্নুহানায়

একলা বাঁচার
অহং অন্ধকার

সেরে যায়

#

ছোটবেলায় মায়ের কাছে চকলেট চাইলে ..

ঘরে ফিরে আসা বাবার
খালি হাত দেখলে ..

আমার একবুক শুকনো কান্না পেলে ..

বাবা আমাকে পাল্টা জড়িয়ে ধরলে ..

চোখের কোণের গরম জলবিন্দু কাঁধে জমাট বাঁধলে ..

বাবার চোখের জলে ভিজে
আমার কান্না থামলেও,

পরে বুঝেছিলাম,

সাধ হলেও,

আমার বাবার যখন তখন

চকলেট দেওয়ার মতো
অবস্থা কখনোই ছিলো না

#

নষ্ট চাঁদের মতো ভ্রষ্ট হৃদয়ে
ফুরিয়ে যেতে চাই

আত্মহননকে শিল্প করে তোলার অভিপ্রায়ে

#

আত্মদীপো ভবো

কখনো গরম কফি, কখনো বা পপকর্ন; কখনো বা
মুঠোফোনে ক্লান্ত চোখ, কল্পলোকের মায়াবী ইউনিকর্ন । কখনো দু'চোখ জুড়ে কল্পনায়, মায়ের কোমল কুমকুম, কখনো বা জলের আঁচলে মাথা পেতে, স্বপ্নের আধো সবুজ জলপাই ঘুম ।

এইভাবেই ভাবনারা একতরফা যন্ত্রণায়, একে একে ইনহেলার টেনে বারবার উঠে দাঁড়ায়, প্রাত্যহিক জীবনের কাঠগড়ায় । শব্দেরা উপেক্ষার ভীড় ঠেলে, ফুসফুসের খাঁজে ডানা মেলে, শব্দ আর ভাবনা আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে,  নিকোটিনের ধোঁয়ার ঘোরে, টলোমলো পা ফেলে ।

এইভাবেই প্রতিদিন, না জানি কতবার কত রকম ভাবে, আমারই অজান্তে আমারই মন, আমাকেই ডেকে চলে নিরন্তর, বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির অপার ও অনন্ত বাসনায় ।

#

হলুদ চালের ভাত

আমার ঈশ্বর
যেন আমারই মতো

সংখ্যা আর রঙের বাক্সেরা
ইচ্ছেমতন বদল করে হাত

বন্ধ্যা মাটিও যে
বারবার হয় রজস্বলা

ডুবে থাকা কবিতার রসে
কবিরা বারবার হেরে গেলেও

কবিতা হারে না কখনো

যেন অনেকদিন পরে একটু ফুটিয়ে খাওয়া

মায়ের হাতের ঘিয়ে মাখা
হলুদ চালের ভাত ।

#

জন্মদাগ

আমার কখনো কোনও
জন্মদাগ ছিল না

তবে
পথ চলতে চলতে
বেশ কিছু দাগ
একে একে জড়ো হয়েছে

আমার চৌহদ্দির চারপাশ ঘিরে

নিক্তি মেপে মেপে
একটু একটু করে

আমি ওদের তুলে রাখি
আমার শব্দের চিলেকোঠায়
আমার ভাবনার বারান্দায়
বুকের পাঁজরের খাঁচায়
যন্ত্রণার শিরায় উপশিরায়

মাঝে মাঝে শ্যাওলা ভরা
পুকুরের জলের ডাকে
আম আর বাঁশ বাগানের পাশ বেয়ে

জলের ধারে
পুকুর পাড়ে যাই
বক মাছরাঙার মতো
চুপটি করে বসি

নিজেকে দেখি জলের আয়নায়

দাগগুলো দেখা যায় কিনা

দেখি, ওরা আমার সাথে নেই

আমি ভালোবেসে
নিজের একান্ত গোপনে
ওদের তুলে রাখলেও

ওরা কখনোই আমার ছিল না

আমার সাথে ছিলো না

আসলে, আমার
কখনো কোনো
জন্মদাগই ছিল না

#

ভাবনার কোলাজ

❑ এক

ডুবন্ত মাংসের ঝোলে মশলায়, নতুন আলুর তোতলামি সেরে যায়

❑ দুই

সোনালী ডানার, খসে পড়া পালকের স্বপ্ন, আকাশে ভাঙলে, নিকোনো উঠোনে, সুবাসিত ফেনা ভাতের স্বাদ পাওয়া যায়

❑ তিন

জলজ লতার মতো, মগ্নতার সম্পর্কে জড়ানো শিকার শিকারী, অনন্ত অপেক্ষার শরীর নিয়ে, রূপকথার নৌকায়, দেবীপক্ষের জোছনায়, চাঁদের কলঙ্ক ছুঁয়ে, আলপনা দেয়

❑ চার

যেদিকে পথ নেমেছে, বাঁক ভাঙা গ্রামের দিকে, রাতের চাদরে, তার ধার বেয়ে, নদীর জল নামে, অনামী ঝর্ণায়, কবিতার অক্ষরে

❑ পাঁচ

ফুটন্ত জল গাঢ় হলেও, চলকে ওঠে না ভাতের ফেনা, পেটের থলিতে আগুন হলে, নীতি মন ধার ধারে না

#

একটু একটু করে

❑ ক

এক একটা লেপের
নীচের ওমে
জমতে থাকে
টুকরো টুকরো অন্ধকার

একাকী আবছায়

যখন
একটা আধো–ঘুম ব্যস্ত শহর
স্বপ্নের ঘোরে
ভালো থাকার বার্তা পাঠায়

ক্রমাগত শীতের পারদ বাড়তে থাকা

ভোর রাতের অচেনা কুয়াশায়

❑ খ

মেঘেরা শহরের আকাশ জুড়ে

মাফলার মুড়ে দিলেও

রিমঝিম বৃষ্টিতে উঠোন বাগান ভেসে যায়

আম জামের ডালে পাতায়
কুয়াশারা কেটে যায়

❑ গ

এখানে শীত
অতিথির মতো বেড়াতে এলেও

মা ঠাকুমারা
শীতের কামড় উপেক্ষা করে
কাঁপা কাঁপা হাত পা সেঁকেন
উনোন আগুনে

আর বুনতে থাকেন একটানা
মাফলার সোয়েটার
একটু একটু করে

❑ ঘ

যদিও শীত
এখানে এসে হারিয়ে যায়
দিনকয়েক পরে
গরমের শহরে

যেমন করে হারিয়ে যায়
আমার ছোটবেলার স্মৃতি
একটু একটু করে

#

তাড়িত শরীরের
তিরতিরে ঝর্নার জল,
শিরশির করে নামলে,
লেগে থাকেনা করবীর স্তনে,
গোলাপের ঘ্রাণ,
না পাওয়া চুমুর যাতনায়

রাতের নীহারিকা জুড়ে,
সুবাসিত অপরাজিতার
যোনি উত্তাপের
দীর্ঘ আমেজে,
উরুসন্ধি পিছল হলে,
রঙ বেরঙের মুখোশ–আলিঙ্গন
খসে যায়

#

পাহাড়িয়া

❑ ক

দিস্তা দিস্তা ব্যাগে ঠাসা, ছোটো বড়ো টুকরো টুকরো মেঘ, ঢুলতে ঢুলতে প্রায় জেগে থাকা, ঘুমন্ত ঘুম রেল স্টেশনের শরীর থেকে কুড়িয়ে এনেও, ফুরিয়ে যায়না, তিস্তার মায়াবী সঙ্গমে, ভালোবাসার একমাত্র স্বাক্ষী হওয়ার
অদম্য কামনা ।

❑ খ

রংলির বাজার, আর নীল তেপান্তরের আকাশের অনামী সীমান্ত ছুঁয়ে, একটানা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা, সারিবদ্ধ দেবদারু আর খ্রিস্টমাসে সাজানো গাছেরা, কুয়াশায় জড়াজড়ি করে ভালোবাসাবাসি করে, ঘনঘোর নিঝুম রাতের বর্ষার হিমেল জলে, মায়াবী চাদরের লুকিয়ে রাখা ভাঁজে, পরম সোহাগে ।

❑ গ

ঘুমন্ত পাহাড়ের কোলে কোলে, বাজতে থাকা বাঁশির টানে, ঘরমুখো ঘরণীও, দুই পলকের মাঝের মুহূর্তে, অজানা কারণে থমকে যায়, মুঠোফোনের দৌলতে, কোনো অচেনা পথিকের ল্যাপটপের, ওয়ালপেপার হওয়ার অস্ফুট আকাঙ্খায় ।

❑ ঘ

নাম না জানা, অচেনা পাহাড়ী ঝুমকোলতার ফাঁকে, অবুঝ সবুজ পাইনের বন, গায়ে গা মিশিয়ে জড়িয়ে থাকে, একে অপরকে ভালোলাগার অপার্থিব কামনায় ।

❑ ঙ

কুয়াশা ঘেরা গ্রামের, ভিজে ঘাসে ঢাকা, পাথুরে মেঠো পথের প্রান্তে, সন্ধ্যার আসন্ন অন্ধকারে, মিশে যায় নিকোটিন, উঠতে থাকা ধোঁয়ায়, ধূমায়িত পাহাড়ী লাল চায়ের কাঁচের পেয়ালায় ।

❑ চ

পাহাড়ি সবুজ ঘন গভীর জঙ্গলের বুক চিরে, কালো পিচের রাস্তা ধরে, তিন হাজার ফুট খাদের ধার বেয়ে, ঝর্নার জলের একটানা আওয়াজ শুনতে শুনতে, টিপ টিপ পায়ে হেঁটে, চড়াই উৎরাই পথ পার করলেও, আশ মেটে না পাহাড়ে আসার । অন্ধকার নেমে এলে, জোনাকির আলোয়, নাম না জানা বাচ্চা পাখির ডাকে, পোকার শব্দে, ঘোর লাগা মন, ঘুরে ফিরে আসতেই থাকে অকারণে, বার বার ।

❑ ছ

পাহাড়ে বৃষ্টি নামলে, গড়িয়ে নামা জলের শব্দে, পাহাড়ি নদীর গর্জন, কোথায় যেন হারিয়ে যায়, কুয়াশা আর মেঘের ঠিকানায়, আর বর্ষণ থামার সাথে সাথেই, ফিরে আসে আবার, পাথরে পাথরে ধাক্কা খেতে খেতে ছুটে চলা পাহাড়ি নদীর অক্লান্ত গর্জন ।

❑ জ

শুধু একটু অবিচ্ছিন্ন নীরবতার আশায়, মন কখনো পাথরের সিঁড়ি ছুঁয়ে, লাল হলুদ পাতাবাহার পথে, নদীর ধারে চায়ের বাগিচায়, কখনো পাহাড় কোলে কমলা বাগানে, মেঘ ঝিরঝির বৃষ্টি ভেজা ডানা মেলে, কুয়াশা মেখে ভেসে যেতে চায় । কিন্তু, না চাইলেও ভেসে আসতেই থাকে শব্দেরা একে একে পাহাড়ি বাঁকে, কখনো পাহাড়ি ঝর্ণায়, কখনো অজানা পাখির ছানার অস্পষ্ট ডানার ঝাপটে, মায়ের পোকা ধরবার একান্ত কামনায় আর মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জলকণা সশব্দে আছড়ে পড়ে পাথরে, গাছের ডালে, পাতায় শিরায় উপশিরায়, ঘাসের গোড়ায়, বিন্দু বিন্দু শিশির কণায় ।

❑ ঝ

খাদের ধারে, এঁকেবেঁকে, উপত্যকার খাঁজ বেয়ে, কুলুকুলু করে বইতে থাকা খিলখিল হাসির নদীর পাড়ে, চুপটি করে বসে থাকতে, জলের শব্দ শুনতে শুনতে, জঙ্গল থেকে ভেসে আসা ঝিঁঝির ডাকের সাথে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় মিশে যেতে যেতে, ফিরে যেতে বেশ লাগে ধূসর অতীতে ।

❑ ঞ

হোটেলের এক একটা ঘর, কখনো কখনো, এক একটা ঢেউ এর মতোও হয়, মানুষের মতো, কখনো কখনো তারাও নিঃসঙ্গ হয় ।

#

ভোর হলেই
বুনোহাঁস উবে যায়
সুবাসিত বিন্দু ছুঁয়ে
একে একে
ভেজা ঘাসের
আগায় ভেসে
আগামী সন্ধ্যার
না বলা অপেক্ষায়

যেখানে
বেল কদম জুঁই
চামেলি হাস্নুহানারা
আশ্চর্য এক স্তব্ধতায়
একবুক অবসাদ মেখে

একে অন্যের পাঁজরে
জড়াজড়ি করে ঘুমায়

#

যে আলিঙ্গন সোহাগ পরশে

গোলাপের পাঁপড়ি
ঠোঁটে মেখে নেয়

যোনিপথের আদিম বিরহ
অপার্থিব উষ্ণতায়

সেই আনন্দ মোহনায়

পরস্ত্রী রাধাও
বিবাগী বৈরাগী হয়ে যায়

#

মেঘের ঘরে
মেঘ জমেছে

ঋণের পরে ঋণ

শুকনো মাটি
গুমরে মরে

একলা উদাসীন

#

জোড় হাতের জড়তা

আঙুল ছোঁয়া রাতকে
হাত করে নিলে

কথায় উপকথায়
ব্যথারা হারিয়ে যায়

শহুরে শিশির
পাললিক শিলার নিটোল ভাঁজে

একলা ঘুমিয়ে যায়

#

অপেক্ষাও একদিন
চরম উপেক্ষায়

নীরবে উদ্বায়ী হয়ে যায়
আসমানী বিষন্নতায়

#

ভাবনারা নির্মম বুদবুদ

এলেও ভেঙেই যায়

অক্ষর বুননে ধরার
অক্ষম চেষ্টায়

#

নিজেদের মতো করেই

নিজেরা একান্তে নগ্ন হই

কিংবা আনত

কারো না কারোর কাছে

কেউ কেউ খুলে রাখি

যন্ত্রণা অবহেলা
দংশন ক্ষত

#

লেখা হয়নি
এখনো কোনও কাব্য

কলঙ্কিত চাঁদের দাগে

#

সীমানারা বদলে গেছে ।

চাকায়
পায়ের পাতায়
পলাশ ভ্রূণ পিষে,

ক্ষতবিক্ষত পথ ঘুরে,

ফিরে গেছে
উদ্বাস্তু ভালোবাসা,

মাদলের ঘোরে
দলে দলে ।

জমাট অন্ধকারে
ফুলদানীর জলে

কাঁটা ভাঙা
নিঃসঙ্গ গোলাপেরা
এখনো

অসময়ে
বিরহের কথা বলে ।

#

পায়ে পায়ে
ছিটকে যায় সময়

দলবদ্ধ অগণিত কলরব
দূর থেকে ভেসে আসে

বুকে ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে
তাদের

ফুটে উঠছে
নাটকীয় সংলাপ
পিশাচের

হাতে চোখে মুখে
বারুদ পোড়া গন্ধ ওদের

বৃষ্টির ফোঁটায়
নিকোটিনের দাগ
মুছে গেলেও

বুলেটের ভয়ে
রাতভর জাগা
মোমবাতি আলোয়

স্মৃতির মন্থনে
ভোর উঠে আসে

#

সুখের আভিজাত্য মুছে

ঠোঁটের বিপ্রতীপ কোণে
জেগে থাকে

আমাদের নিঃসঙ্গ
ঘরোয়া অবসর

#

ভালোবাসা যদি

ভালোবাসা যদি সবুজ ধানক্ষেত হয়ে জেগে ওঠে কালিন্দীর পাড়ে আর বর্ষার ঘোলা জলে ডুবে যায় ভূতনীর চর, হলুদ চাঁদের শরীরি আলোয়, পেঁচারাও ডুবে থাকে সহবাসে, অফুরান রাতভর । কলাই, মুগ, মসুর, সরষে, তিল, তিসি, মুখ তুলে জেগে থাকে কুয়াশায়, জোনাকি আলোর অপেক্ষায়, অমাবস্যায় । ভালোবাসারা থেকে থেকেই ধীরপায়ে হলুদ হয়ে যায় । তারপর আরো বর্ণহীন হয়ে মুছে যায় জীবনের সমস্ত ঘ্রাণ । সেতারের মূর্ছনায়, বেহুলার পাড় ভাঙা চলতেই থাকে অফুরান । ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর, অবশেষে বায়ুহীন, নিস্পন্দ নিষ্প্রাণ । তারপর একেবারেই বিলীন । তখনই বোঝা যায়, কে কার কতটুকু দায়, কে কার কতখানি ঋণ । বন্যার ঢেউও তখন একান্তই অসহায় । বাঁচার তখন শুধু একমাত্র উপায়, মড়ার মতো ভেসে থাকা, সূঁচ হয়ে খড়ের গাদায় ।

#

মারবে ? মারো ।
বার বার মারো ।

যাতে,
কালশিটে দাগ
বসে যায় ।

মারো,
যত খুশী মারো ।

এতো বেশী মারো,

যাতে,
ভয়ে মরা
দূর হয়ে যায় ।

#

আমার এক একটা দিনের
জেগে ওঠা
এক এক রকম

পর পর দুটো দিন
একরকম হয়নি কখনো

অমিলগুলোর কিছু
দেখা যায়

বাকিরা যায় না

আজকাল আবার
ঘুম ভাঙলেও

আড়মোড়া ভাঙতে
মন কেমন করে

#

নশ্বর জীবন
অবিনশ্বর নয়

ক্ষণস্থায়ী ভঙ্গুর
এক একটা বন্ধনে

একটু একটু করেই
সম্পর্ক পথভ্রষ্ট হয়

#

আমি সইতে পারি সব

আঘাতের প্রতিলিপি থাক
আর নাই থাক

#

কিছু শব্দ রয়েই যায়
না বলা ভাষায়

নোনা অচেনা
জলের ফোঁটায়

ওরা ধুয়ে মুছে
মিলিয়ে যায়

#

লালমাটির টানে

একটু একটু করে
শুকিয়ে যাচ্ছে

চোখের নোনা জল ।

বুকে বৃষ্টি ভরে আনো,

ধুয়ে নেই নুন সাদা দাগ;

সবুজ পাতার চোখ
আজ বড়ো এলোমেলো
টলোমল ।

#

যেখানে ভালোবাসা

জমাট বাঁধে শিশিরের বুকে

সেখানেই ঘাসের আগায়
বেঁচে থাকে

চুম্বনের গাঢ় উৎসব

#

আমার জন্মদাগ জুড়ে
ঘুমিয়ে থাকে

নিজেকে না ছুঁয়ে চলার
একলা অনিচ্ছা

আর ফেলে যাওয়া
জোনাকির স্বপ্নের

রাতভোর আবাহন

#

লুটিয়ে পড়া
চাঁদের আলোয়

ঢেউ ভাঙা
ভেজা বালির নীচে

ঘুমিয়ে ছিলো

বহু বিভাজিত
আধা সংযমী মনের
স্বাধীনতা

#

ডুবতে থাকা আলোয়,

তোমার আমার
পাহাড়ী নদী,
আড়মোড়া ভাঙে,

কোমর ছোঁয়া জলে ।

কুয়াশায়,
পাথর ভেজা শ্যাওলায়,

চোখের তারায়, মন

মনের কথা বলে ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি