কবিতা সংকলন @ রাজেন্দ্র
এক
*
জীবনবাস্তব থেকে
পালানোর অভিপ্রায়ে
চলার পথে সবসময়ে
একটা লুডো খেলাঘর
সামনে চলে আসে
সাপ সিঁড়ির
যেখানে প্রতিপদে
সাপের কামড়ও
অপেক্ষা করে থাকে
পাশাপাশি
যেই মুহুর্তে ভ্রাম্যমাণ
অস্তিত্বের জগতে
আমি একলা প্রবেশ করি
দুই
*
টিক টিক পেন্ডুলাম
দুলছে মন অবিরাম
বাম ডান, ডান বাম,
হে আল্লাহ হে রাম
তিন
*
রাত গভীর হলে
———————
রাত গভীর হলে
বিছানা ফেলে
চলে যাওয়া আঁচল
মুখ ঘুরিয়ে নেয়
আর ঘুমিয়ে পড়ে
একলা নীরবে
ঝরাপাতার দলে
একাকীত্বের চরম ঘুমে
চার
*
আলহামদুলিল্লাহ্ !
অজ্ঞানতার অন্ধকার
ঢেকে যায় বারবার
কবর মাটির অন্ধকারে ।
উল্কায় তারায়
আনন্দের
জ্যোতিধারায়
নেমে আসেন
আল্লাহ আমার
ভালোবাসার দরবারে ।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম !
পাঁচ
*
একটা অন্ধকার ঢাকতে
নির্মাণ করি
আরো অসংখ্য অন্ধকার
ছয়
*
অন্যের সাথে
নিজের তুলনায়
সাফল্য ব্যর্থতার
ব্যালেন্স শিট বোঝা যায়
সাত
*
মূর্খ লুম্পেন ঠক
ভন্ড লুটেরাদের ভিড়ে,
সুস্থ্য মানুষই
থাকতে পারে না যেখানে,
বিদ্যাসাগরের মূর্তি
কেমন করে এতকাল
নীরবে ছিলেন দাঁড়িয়ে সেখানে !!!
আট
*
কর্তার কর্মের ফসল
সমাজ গ্রহণ করলেও
কালের নিয়মে
কর্তাকে যেতেই হয়
সংসার ছেড়ে
নয়
*
গড়িয়ে নামা আলোর
আঁধারি উত্তাপ
কুড়িয়ে নেওয়া চশমার
ঝাপসা জলকণা
রিক্ত হ্রদের
কৃপণ শরীর ধরে
চৌরাস্তার মোড়ে
নিয়নের মাথায়
আদিম বৃষ্টিকণার
পরশ ছুঁয়ে
অনন্ত অন্ধকার মেখে
ঘুমিয়ে থাকে
দশ
*
অবুঝ
++++
সংস্কার কারাগারে
নিয়ম ঘেরাটোপে
শাসিত মগজ
কালের গর্ভে
শান্তনা খুঁজে ফেরে
সামাজিক ঔচিত্যবোধ
জর্জরিত মন
স্বপ্নের নির্জনে
ইচ্ছারা অবদমিত
একান্ত গোপন
স্মৃতির বিষাদ
অতৃপ্ত যাতনা
ধুয়ে যায়
ঐশ্বরিক ভালবাসায়
বোঝেনা অবুঝ মন
কি পায়
আর কি হারায়
এগারো
*
আমার ঈশ্বর
যেন আমারই মতো
সংখ্যা আর রঙের বাক্স
ইচ্ছেমতন বদল করে হাত
অবদমন অপশাসনে
কবিরা বার বার হেরে গেলেও
কবিতা হারেনা কখনো
যেন অনেকদিন পরে
একটু ফুটিয়ে খাওয়া
মায়ের হাতে ঘি মাখা
হলুদ চালের ভাত
বারো
*
বিশ্ব নাগরিক
***
অন্তরের ঈশ্বর
ক্ষতবিক্ষত লাল
মেরুদন্ড আছে কিনা দেখিনি
ওঁর দ্বিতীয় কোনো
নামও ভাবিনি
মনের মানচিত্রে
খন্ড বিখন্ড
প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে
ভাবনারা
অদ্বিতীয় স্বর্গের সিঁড়িতে
বিনা ক্যারেকটার সার্টিফিকেটে
নাড়ছে জন্মান্তরের কড়া
পরিযায়ী মহাকাশযান বদান্যতায়
আজকের বিশ্বনাগরিক শিশু
মুঠোফোন হাতে গুগুল নিয়েই জন্মায়
তেরো
*
রোদ্দুর মাখলে
ছোঁয়াছুই খেলার সম্পর্ক
গলে যায়
চোদ্দ
*
চরম গরমে
বাঁশবাগানের মাথা
মেলে ধরে ছাতা
চৌরাস্তার মোড়ে
পনেরো
*
মগের মুলুক
ভোটের ভিড়ে
উধাও
আধপাগলের দরবার
জীবজন্তু নিয়েই
বারোমাস
যত ব্যবসায়িক
কাজ কারবার
ষোলো
*
কালির দুর্নাম মেখে
ফানুষ ভুলে যায়
উড়বার প্রকরণ
গোলাপের কাঁটা
ভাঙে ব্যাকরণ
সতেরো
*
কিছুটা অন্তরঙ্গ বরফ
নিয়ে আসে
ভালোবাসার বর্ষা
আজকাল তো সবার
রাজনীতিই একমাত্র ভরসা
আঠেরো
*
দেশলাই আবিষ্কর্তার মোজার রঙ
নীলনদ তীরে
ফারাও এর সাথে
নীলকুঠি মেমের
সূর্যস্নান
পাঠোদ্ধার না হওয়া
হরপ্পা লিপি
সংবিধানী ধারাপাতের শব্দকল্পদ্রুম্
আর পৃথিবীর যাবতীয়
গোলাকার জঞ্জালের
গলাকাটা ইতিবৃত্ত
এখন মরুময় পামীর মালভূমির প্রশস্ত গুমঘরে
ঘুমিয়ে
উনিশ
*
কাস্তে হাতুড়ি লাল ঝান্ডার
কলরব আর মে দিবস পালন
এখন ঠাণ্ডা ঘরে বসে
ফলের রস লস্যি হাতে
কাজু কিসমিস খেতে খেতে
কুড়ি
*
সেই সব উটেরা
১
কলোনীতে আসে
পাথুরে পেশাহীন
বুড়ো উট
কল্পনায়
রূপান্তরের যোনি
পিতৃত্বে অস্ফুট
২
অপদেবতার পিতৃত্ব
বেআব্রু আফগানী
বিশেষণ অব্যয় ক্রিয়ায়
অজাচার শয়তানী
৩
মুক্তি নেই
উটের মুক্তি নেই
নেই তার বীরাচার
মহানিশা পরাভূত পৃথিবী
অমৃতপদে
ভ্রাম্যমান কদাচার
৪
পেলোনা ইন্দ্রিয়বোধ উট
মাত্রাহীন মাত্রায়
ইচ্ছেপূরণ জাহাজ ভাসে
চিল শকুন কব্জায়
৫
নেই অনুষঙ্গ
সম্পর্কের আবাসস্থলে
নেই বুনো ঔরস
নেই বৈধ অবৈধ
তোষামোদী খানা
যৌনাচারে পরবশ
৬
ছিবড়ে কাঁটায় নিরাময়
উদ্ভিদের ক্লোরোফিল জানে
নিরাত্মায় বৃথা পাপ
এতো জাহাজবন্দরও মানে
৭
টলমাটাল পাখির ডানায়
কপট ঝাপট দেয়
বেমক্কা রজঃরস
উটের সংসারে
ধোঁয়ার কুন্ডলী
দ্রাক্ষার রসে
রিপুরাও অবশ
৮
বুড়ো উট
আনন্দে নীল
আগলে রাখছি
আপাদমস্তক
বলা হয়েছে
যৌনতার দিক
বলা হয়েছে
বৈধতা চুম্বক
৯
গ্রহণযোগ্য নই
বলব না একথা
আবেগে চরম দার্শনিক
কৌশল জানা
উটের মাস্তুলে
বসে থাকি
একলা নাবিক
১০
আবেগে মথিত
জীবন নাটকে
মুহূর্তেরা
রহস্যময়ী ঢেউ
বালির চোরাটানে
সভ্যতা ঘুমায়
ঘুমিয়ে জাগা
দেখেনি কেউ
১১
উথলেছিল বালির ঢেউ
রহস্যে মূর্ত হয়ে চমৎকার
ভালোবাসার উড়ানে
বাঁশিতে
শরীরী উটের
বীভৎস শীৎকার
১২
জীবনবাস্তবে না ভাবা
অস্তিত্বের প্রতিফলন
রাধারানীর ভালোবাসা
মহাসুখ লীলায়
মুর্ছিত কিছুক্ষণ
১৩
প্রত্যক্ষ সহজধর্মের ডাকে
সংযোগী অতিন্দ্রিয়
বুনো উটের প্রহর
চুম্বন আলিঙ্গন নেই
তবু আয়ু তার
সহস্র বছর
একুশ
*
নিবেদন
***
রোজ ভোরে
ফুল উধাও
ঝুল কালি মাখা
ঘুণপোকার ডাকে
আধবোঁজা জানলার ফাঁকে
আলোর উঁকির আগেই
ভাঁজ তুলে দিলে পর্দার
ভেসে ওঠে
পায়ে ক্যাম্বিস
পরনে সালোয়ার
খোলা পিঠে এলোমেলো চুল
ঘামে ভিজে একাকার
দেখি আর ভাবি
শোনালে কেমন হয়
দু’চার বুলি
রুক্ষ পাথুরে কথার
অপেক্ষায় থেকে রোজ
পায়ের শব্দের
আধোঘুম চোখে বাসি মুখে
চলে গেলো পা’দুটো এক ভোরে তার দিকে
দেখতে পেলো না
ললনা আমায়
ভোর রাতের ফিকে অন্ধকারে
ফুল তোলার
অপার্থিব মগ্নতায়
ইতস্তত বোধ ফেলে
স্বরযন্ত্রের বাতাসের ঠেলায়
চমকে ছিটকে গেল সব
আচমকা আওয়াজে
ফুলেরা তখন ধুলো ধূসরিত একমনা উদাসীন
কেউ আর
লাগবে না তার কাজে
মুখে নেই কোনও শব্দ
শুধুমাত্র ইশারায় বোঝালো সে
ফুল দেবে তার প্রিয়তম দেবতার পা'য়
লজ্জায় চাইলাম নীচে
ওর ফুল সব নিবেদিত
আমার পায়ের কাছে
বাইশ
*
আমি স্বপ্ন দেখেছি আজ,
ভোর রাত কুয়াশায়,
বাতাসের ঘ্রাণে শুধু বারুদ পেয়েছি ।
আমি দেখেছি সে অমানিশা,
ফুরিয়ে ফেলেছি ভাষা,
শিউলি ছাতিম ঘ্রাণে তোমায় খুঁজেছি ।
ভালোবাসার দিব্যি খেয়ে,
শুধু তোমায় চেয়েছি ।
আছে এখনো এগিয়ে চলা,
কানে কানে কথা বলা,
এক সুর এক তাল, হয়ে মন প্রাণ ।
যদি ভালোবাসা বেঁচে থাকে,
তবু মনে একা লাগে,
বিছানায় কাটে রাত, শুধু গেয়ে গান ।
ভালোবাসার দিব্যি খেয়ে,
শুধু তোমায় চেয়েছি ।
আমি যেদিন ভরসা পাবো,
তোমার স্বপ্নে যাবো,
ভাববো না আর একা নিজেকে নিয়ে ।
যদি সময়টা ফিরে আসে,
হাওয়ার তালেতে ভাসে,
শূন্যতে ফিরে যাওয়া সব হারিয়ে ।
ভালোবাসার দিব্যি খেয়ে,
শুধু তোমায় চেয়েছি ।
যদি আবার সুযোগ আসে,
বসবো তোমার পাশে,
হাত ধরে বলবো, ক্ষমা করে দাও ।
যদি ক্ষমা তুমি নাও করো,
তবুও আগলে ধরো,
দুহাতে জড়িয়ে রেখে, বুকে টেনে নাও ।
ভালোবাসার দিব্যি খেয়ে,
শুধু তোমায় চেয়েছি ।
Comments