কবিতা কেন ?
আমি কারুর ভালো লাগার জন্যে তো কবিতা লিখি না।
শুধু নিজের জন্য লিখি ।। আমি কতটা তৃপ্ত সেটা বড় কথা,,,,,
বন্ধুদের কাছে একটা প্রশ্ন—সবার সব কবিতাই কি কবিতা হয়ে ওঠে?
হয়তো হয়ে ওঠেনা। আর এখানেই আমার আজকের বক্তব্য। এটা প্রায়শই দেখা যায় বা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার লক্ষ করা যায় কাউকে বরাবর ভালো বলে আসার পর হঠাৎ করে কোনোদিন সমালোচনামূলকভাবে খারাপ বলা হয় তবে তার মধ্যে একধরনের ক্রোধ বা অসহিষ্ণুতার জন্ম হয়। এটি মূলত হয় হঠাৎ করে বিরুপ সমালোচনা মেনে না নিতে পারার জন্য। যেহেতু সে এতদিন ভালো শুনতেই অভ্যস্ত তাই প্রতিক্রিয়াটিও হয় বিস্ফোরক। এটা আদতে তার সৃষ্টির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
আমি মনে করি যে কোনো সৃজনের প্রতি সৃজনকর্তার কিছুটা অতৃপ্তি থাকা উচিৎ। অন্যথায় তার সৃষ্টিকে সর্বোত্তম ভেবে বসলে নতুন সৃষ্টির প্রতি সৃজনকর্তা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে বা নতুন সৃষ্টিকে জন্ম দিতে পারবে না।
আমি এ পর্যন্ত পাঁচটি কাব্যগ্রন্থের জন্ম দিয়েছি। কিন্তু প্রায়শই আমি নিজেকে প্রশ্ন করি—আজ পর্যন্ত কি একটাও সফল কবিতা লিখতে পেরেছি?এবং উত্তর অবশ্যই না। এটাই তো অতৃপ্তি যা নতুন সৃজনের পক্ষে সহায়ক।
আমার সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগে যখন দেখি ২০-২২ বছরের আমার ভাই-বোনেরা কিছুদিন কবিতা চর্চা করে কয়েকটি পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের পর অন্য জগতে বিচরণ করতে শুরু করে। তাদের মধ্যে এক ধরনের অহং—এর জন্ম হয়।নিজেদেরকে সমস্ত রকমের সমালোচনার উর্দ্ধে ভাবতে শুরু করে। এটা কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ উত্তরণের পথে অন্যতম প্রধান বাধা।
তাদেরকে সুস্থ মনে ভাবতে হবে তাদের সামনে যে পথ তা অনেকটাই দীর্ঘ। পথে অসংখ্য চড়াই-উৎরাই ও বাঁক যা অতিক্রম করেই তাদের এগোতে হবে।বিশেষ করে যে কোনো শিল্পমাধ্যমের পথ কিন্তু ততটা মসৃণ নয় যতটা ভাবা হয়। সুতরাং এই চলার পথে যেমন অনুকুল সমালোচনা আসবে তেমনই বিরুপ সমালোচনাও। সেক্ষেত্রে অনুকুল সমালোচনায় যেমন খুব বেশি উল্লাসের কিছু থাকা উচিত নয় তেমনই বিরূপ সমালোচনায় বিশ্রী রকমের প্রতিক্রিয়াও কাম্য নয়।
আর একটা কথা মনে রাখতে হবে যে কোনো সৃষ্টি পাবলিকের কাছে ওপেন করে দেবার পর শিল্পীর আর কোনো অধিকার নেই বলার যে তিনি শিল্পটি সৃষ্টি করেছেন শুধু নিজের জন্য, সুতরাং অন্যের ভালো লাগা বা না লাগাতে তার কিছু যায় আসে না। এটা এক ধরনের অসহিষ্ণুতা। পাবলিকের মতামতকে গুরুত্ব না দেবার প্রবণতা যা শিল্প সৃষ্টির সর্তকে লঙ্ঘন করে।
কেউ যদি নিজের জন্য কবিতা লেখে সেটি প্রকাশ করার কি প্রয়োজন?
আমি একমত দাদা। অনেকেই দেখছি তাদের লেখা নিয়ে জাহির করতে, আমি অমুক পত্রিকায় লিখেছি তমুক পত্রিকায় লিখেছি। লেখা নিয়ে এত অহংকার কিসের বুঝি না। আমি কটা পত্রিকায় লিখলাম তার বিজ্ঞাপন দিয়ে কী লাভ! আমি তো সব সময় সমালোচনা পছন্দ করি আর আমার সেরা লেখাটা আমি কবে লিখবো নিজেই জানিনা।
কুমারেশদা আমিও সহমত। আসলে নিজস্ব অনুভূতির কাছে আত্তীকরণ খুব প্রয়োজন
Rabindranath poroborti juger kabita pathok se rokom vabe grohon koreni ei karonei besir vag kobi nijer jnno likhte suru kre diyechen
কুমারেশদার কথাগুলির সাথে আমি সহমত পোষণ করছি। গঠনমূলক প্রশংসার পাশাপাশি গঠনমূলক সমালোচনাও কাম্য। অতৃপ্তি না থাকলে নতুন কিছু সৃষ্টির ইচ্ছাটাই তো জাগবে না। এটা আমিও বলি। কয়েকদিন আগেই আমি বলেছিলাম যে, আমি কবিতা লিখেও সুখ পাচ্ছি না। কবিতাগুলোকে বাচ্ছাবেলার হিজিবিজি মনে হচ্ছে। এটাই তো সেই অপূর্ণতাবোধ, অতৃপ্তিবোধ যা আমাকে আরও লিখতে, আরও শিখতে অনুপ্রাণিত করে। ঈশ্বর ব্যতীত কেউ সুপারলেটিভ নয়। তাই সকলের উন্নয়ন প্রয়োজন, উন্নয়ন সম্ভব। খোলা মনে কবিতা লেখো। খোলা মনে গ্রহন করো সকল সমালোচনা ও প্রশংসা।
অতৃপ্তিই আমাদের চলার পথকে মসৃণ করে তোলে| অহংবোধ কখনই উন্নতির সূচক নয় বরং আলপিন|
।
তবে কবিতা কি সত্যিই বিচার করা যায়?
কে সেটা বিচার করতে পারে?
কি আঙ্গিকের বিচার ব্যবস্থা?
আসলে কবি সেই মুহুর্তে যখন কলম হাতে তোলে আর দাগ কাটে সাদা কাগজে, ঠিক সেই মুহুর্তের জন্য তার কাছে ওটাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। কারন সেই মুহুর্তে সে ওটা ছাড়া কিছু ভাবতেই পারছে না। তাই না?
অহংবোধ বোধ একটা পাগলামো। সবারি কম-বেশী থাকে। তবে কাব্যে অহংকার সৃষ্টি করি আমরা, প্রশংসা করার আবেগে ভুলেই যাই যে ঠিক কতটুকু বলা যায়! আর সেই প্রশংসা শুনে যা হবার তাই হয়।
সমালোচনার জন্য বোধ করি কবিতা বা লেখাটিকে অনেকবার পড়তে হয়। খুব সাধারণ লেখার মধ্যেই অনেক গভীরতা লুকিয়ে থাকে। একঝলক পড়েই দারুণ অথবা আরো ভালো হতে পারতো এটা বলা যায় কি? আসলে একঝলকে আমাদের চোখে ধরা পরে কিছু লাইন,কিছু শব্দ প্রয়োগ। আর তার বিচারেই কবিতা এবং কবি বিচার্য হয়।
কিছু ভুল বলে থাকলে সংশোধন করে দিও।
এও সঠিক।কিছু কথা কিছু লেখা সবার কাছে পৌঁছয় না, তবে কারুকারুর কাছে পৌঁছয় নিশ্চয়ই
নিজের জন্য হোক বা কারুর জন্যই হোক।আসলে সৃষ্টির তাড়নাটাই আসল
তবে হ্যা সমালোচনা নিতে হবে। নিজস্ব অনুভূতি সঠিক থাকলে তাকে নিজের মতো বলতেও হবে
Comments