Tarak Biswas

একবার একটা মাথাপাগল লোক ঠিক করল, সে ধর্মের সমালোচনা করবে। খুবই ভাল কথা। শুভস্য শীঘ্রম, ফেসবুকেই শুরু হল ধর্মের বিরুদ্ধে জেহাদ। লিখল, "দুর্গা বা সরস্বতী আসলে বেশ্যা"!

অবশ্য মনে একটা চোরা ভয় কাজ করছিল তার। কিছু হবে না তো? হওয়া অবশ্য শুরু হয়েছিল। মানে প্রথমে দু'চারটে "দেশদ্রোহী", "একে পাকিস্তানে পাঠানো হোক" কমেন্ট ফ্লো করেছিল। কিন্তু তারপরেই দেখা গেল, কিছু হবার আগেই তার একগাদা সমর্থক জুটে গেছে। সে আরও অবাক হয়ে দেখল, তার আবার বেশিরভাগই শহরের নামীদামী জেনেগেন। কাউকে সে দেখেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুভমেন্টের হয়ে টিভিতে মুখ দেখাতে, কাউকে দেখেছে সিপিএমের হয়ে কাগজে ইন্টারভিউ দিয়েছে। কেউ হয়ত প্রেসিডেন্সির পড়ুয়া, কলেজ স্ট্রিটের বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্য।

যত দিন যেতে লাগল, তত সে অবাক হতে লাগল। ফেসবুকে তার ফ্রেন্ডলিস্টে ছিল মোটে শ'খানেক লোক, এদিকে যত দিন যায় ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসতেই থাকে। সবাই ইনবক্স করছে,
"এরকম অন্যধারার চিন্তা সত্যিই পোসেনজিতের বাংলা অন্যধারার ছবিকেও ছাড়িয়ে যায় মশাই"!
"মনুবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন আপনি, মনুবাদ সে আজাদি"।
"ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে, হুদুর দুর্গার বিরুদ্ধে লড়ে যান কমরেড, মহিষাসুর মাঙ্গে আজাদি!"
"আগামী পরশু কলেজ স্ট্রিটে আপনাকে নিয়ে স্ট্রিটকর্নার করব, বিকেল নাগাদ চলে আসবেন! কলেজ স্ট্রিট মাঙ্গে আজাদি!"

আর একটা নামও তার কানে আসছিল, যদিও সে জানে না এই ব্যক্তি কে।
"রোহিত ভেমুলার উত্তরাধিকার এইভাবেই আমরা যুগযুগান্ত ধরে বয়ে নিয়ে যাব কমরেড!"

আবার প্রশ্নও উড়ে আসে। "আপনার মত প্রগতিশীল, উন্নয়নশীল, বেনীমাধবশীলের কাছে প্রশ্ন, কাশ্মীরের আজাদি নিয়ে আপনি কি ভাবছেন?"

কিছুদিনের মধ্যেই দেখল, ফেসবুকে তার ডিপিটি নিয়ে বেশ কিছু মিম নেমেছে বাজারে, সবেতেই 'লাল সেলাম' বলে শয়ে শয়ে লোক শেয়ার করে ধন্য ধন্য করছে!

লোকটা গেল হিট খেয়ে। এই তো চাই। ছিল ফকির, হয়ে গেল আমির। ধর্মের বিরুদ্ধে জেহাদের এমন মহিমা?

পরের দিন বার খেয়ে সে আবার স্টেটাস দিল। এবারে লক্ষ্য, নবী মহম্মদ।

স্টেটাস দিয়ে বেশ আয়েশ করে তক্তপোষ থেকে নেমে একটা বিড়ি ধরিয়েছে। আজ নিশ্চয়ই কোনও মিছিলে যেতে ডাকবে। দেখি আজ কিরকম কি রিপ্লাই আসে।

রিপ্লাই এল। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই। প্রথমে ফেসবুকে পিন ড্রপ সাইলেন্স। সবাই ইসলামের অবমাননার শোকে পাথর। তারপর ভায়োলেন্স। ঘরের বাইরে ঢিল, পাটকেল, আল্লাহু আকবর। শেষে লোকাল থানার পুলিশ। সেফ কাস্টডি।

লোকটি এখনও বুঝল না, এক যাত্রায় এমন পৃথক ফল কি করে হয়!
______________________________________

সব চরিত্র কাল্পনিক। তবে তারক বিশ্বাস কোনও কাল্পনিক নাম নয়। ইসলামের সমালোচনা করে হাওড়া সিটি পুলিশের হেফাজতে বন্দি। এবং এই নিয়ে প্রগতিশীলদের নীরবতাও কাল্পনিক কিছু নয়।

কারণ এখনও আসল কথাটা আমরা এড়িয়ে যাই। যেটা এদেশে অবিলম্বে দরকার। ইসলামিস্ট সে আজাদি।
------------------------------------
তারক বিশ্বাস কোনও সংবাদ শিরোনামে আসেনি।

উরিতে সতেরো জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দুজন বাঙালি, গঙ্গাধর দোলুই, এবং বিশ্বদীপ ঘড়াই। গঙ্গাধর হাওড়ার, বিশ্বদীপ চব্বিশ পরগণার, যদিও এরা দুজনেই বিহার রেজিমেন্টে চাকরি করতেন। বাঙালি রেজিমেন্ট তো নেই আজও। যাই হোক, উরির ঘটনার পরেও যদি ভারত দৃষ্টান্তমূলক প্রত্যাঘাত না করে, সেক্ষেত্রে সঙ্ঘ পরিবারের ভেতরেই প্রচুর বাওয়াল শুরু হবে। দেখা যাক কি হয়। এদিকে কলকাতার পণ্ডিতিয়া প্লেসের ঘটনাও সংবাদশিরোনামে এসেছে, তা দেখে মনে হয় বাঙালির খবরগুলোও আজকাল সর্বভারতীয় সংবাদের তুলনায় বামনগোছের হয়, আমাদের জাতটা সুপার-আঁতেল হতে গিয়ে নিতান্তই পিগমি হয়ে গেছে।

একটা ঘটনার কোনও খবর হয়নি এখনও পর্যন্ত। অথচ হতে পারত। তারক বিশ্বাস নামে পশ্চিমবঙ্গের একটি ছেলে গত শুক্রবার রাতে (বেশ গভীর রাতে, রাত দেড়টায় বলে শোনা যাচ্ছে) গ্রেপ্তার হয়েছে ইসলামের প্রফেটকে অবমাননা করার দায়ে। সে ফেসবুকে সমস্ত ধর্মের সমালোচনা করেই লিখত। অ্যাকাউন্ট ডি-অ্যাক্টিভেট করে দেওয়ায় এখন আর দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু আমি দেখেছিলাম, সে সব ধর্মকেই সমালোচনার ব্যাপারে বেশ ডাকাবুকো ও চাঁছাছোলা ছিল। ধর্মমুক্ত নাস্তিক মানবতাবাদী সমাজ গঠনের এজেন্ডা আর কি। মনুবাদকে প্রচুর তুলোধোনা করে দেওয়ার পরে সে ঠিক করল, এইবার ইসলামকেও সমালোচনা করতে হবে। নয়ত ব্যাপারটা একচোখোমি হয়ে যাচ্ছে। বেচারা, সে খেয়াল করেনি, বেশিরভাগ দলিত অ্যাক্টিভিস্টই এই একচোখোমিই করে থাকে, এবং কেন যে করে থাকে, সেও সহজবোধ্য। এই দলিত নামধারী ইসলামিক এজেন্টরা মা দুর্গাকে বেশ্যা বলে বেড়ায়, এবং এদের নামে আমরা কেউ পুলিস কেস করি না। মনুবাদের প্রবল সমালোচক তারক বিশ্বাস, শুনছি সে তার প্রোফাইলের নাম রেখেছিল তারক হিউম্যান বিশ্বাস, এইবার কিন্তু মহম্মদের সমালোচনা করার দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করেছে হাওড়া পুলিস, এবং বর্তমানে সে তিনদিনের রিম্যান্ডে রয়েছে জেল হেফাজতে। শোনা যাচ্ছে ৫৮০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান তার বিরুদ্ধে পুলিসের কাছে অভিযোগ করেছে।

ভাবুন তো, এই তারক যদি হিন্দুধর্মের, উচ্চবর্ণের, ব্রাহ্মণ্যবাদের সমালোচনা করে পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হত, তাহলে আজ যাদবপুরের কচিবামেরা কি নিদারুণ বিপ্লবের ঘোড়া ছোটাতেন কলকাতার বুকে। কেশব ভবনের সামনে সম্ভবত পথনাটিকা হত, আর অ্যাকাডেমির সামনে এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না, গলা কাঁপিয়ে কেউ আবৃত্তি করে প্রচুর হাততালি পেতেন। হিন্দু ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি চাই, দিকে দিকে ধ্বনিত হত, জে এন ইউ থেকে ডাফলি বাজাতে বাজাতে অনেকে চলে আসতেন সেই বিক্ষোভ প্রতিবাদে অংশ নিতে। তারক ইসলামের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার, তাই প্রগতিশীল উবের-আঁতেলরা সবাই চুপ মেরে থাকবেন।

তারক নিরাপদে হিন্দুধর্মকে কয়েকটা খিস্তি করলে ধর্মমুক্ত মানবতাবাদীর খেতাব পেত। তাতে সন্তুষ্ট না থেকে ইসলামের সমালোচনা করতে গেছিল তারক, ইসলামের নবীর সমালোচনা করতে গেছিল। ফেসবুকে তো তার একপ্রস্থ জানাজা হয়েছেই ইসলামিস্টদের হাতে, এইবার আদালতে আরেকপ্রস্থ হবে আশা করা যায়।

তারক জাতিতে নমশূদ্র। নমশূদ্রদের মধ্যে একতা আছে বলে আমাদের একটা ধারণা ছিল। নমশূদ্ররা দুর্দান্ত জাতি, তাদের ঘাঁটাতে মুসলমানেও ভয় পায়, এমন মনে করতাম আমরা অনেকেই। সে ধারণাটা দেখা যাচ্ছে খুব একটা ঠিক না। তারকের পাশে না দাঁড়িয়ে তাকেই দোষারোপ করতে অনেক নমশূদ্র ব্যস্ত। একটা পোস্ট দেখছি, সেখানে তারকের পাশে দাঁড়ানো দূরস্থান, সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে, তারকের মত ভুল যেন কেউ না করে। বস্তুত প্যানিক ছড়ানো হয়েছে, যে খবরদার, কেউ যেন ইসলামের সমালোচনা কোরো না, করলেই হাজত।

তারকের একটা দোষ, তারক নাকি আম্বেদকরপন্থীদেরও কড়া সমালোচনা করেছে, অনেকে লিখেছে দেখলাম। সবাইকেই কড়া কথা শুনিয়ে দিত সে, এ থেকে বোঝা যাচ্ছে। বস্তুত, সমালোচনা যে বেছে বেছে করতে হয়, সেটা তারক বোঝেনি, এবং সেটাই ওর প্রধান দোষ দেখা যাচ্ছে। এদিকে দলিত অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে যে পরিমানে ইসলামিক এজেন্ট ঢুকে পড়েছে, সেটা আগামী দিনে যোগেন মণ্ডলের কৃতকর্মের থেকেও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে চলেছে। হিন্দুধর্মের এই কাস্ট অর্গানাইজেশনগুলো একটা ইউনিক শক্তি যোগাত হিন্দু সমাজকে সমস্ত ক্রাইসিসের মধ্যেও, সেটার মধ্যে ঘুণ ধরেছে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

সমস্যা হল, তারকের পাশে কে দাঁড়াবে? সে তো যুক্তিবাদী ছিল, প্রগতিশীল ছিল। কোন যুক্তিবাদী এসে দাঁড়াবে ইসলামের আগ্রাসনের সামনে? তসলিমাও তো যুক্তিবাদী আর প্রগতিশীল। কি হয়েছিল? আমি যে বারবার বলি, ইসলামের আগ্রাসন আটকাতে গেলে এই পশ্চিমী বিশ্বমানবতা, এই লিবেরাল যুক্তিবাদ, এনলাইটেনমেন্ট-নির্ভর ধর্মমুক্ত নাস্তিকতা দিয়ে চলবে না। ইসলামকে আটকাতে পারে শুধু হিন্দুধর্ম, ভারতের প্রেক্ষিতে। মায়ানমারে বৌদ্ধধর্ম, অন্য দেশে অন্য কোনও ধর্ম। কিন্তু এই যে সবাই ধর্ম ছেড়ে দিয়ে ওই কাঁঠালের আমসত্ত্ব টাইপের ধর্মহীন গ্যাসবেলুন বনে যাবে, এবং তাতেই মৌলবাদ আর সাম্প্রদায়িকতার সমস্যার সমাধান, এই খোয়াব দেখা বন্ধ করে এইবার বেরিয়ে আসা দরকার। তা নয়ত এইসব সৎ সাহসী লিবেরাল প্রগতিশীলরা তসলিমার মতই ইসলামের বুলডোজারের তলায় চাপা পড়বেন, আর ধান্দাবাজ লিবেরালরা ইসলামের দালালি করে আখের গুছোবে, যেমন তৃণ আর বাম জেহাদীরা করছে।

তারক হিন্দুত্ববাদী বলে একটা দাবি করা হচ্ছে ইসলামিস্টদের তরফ থেকে, নমশূদ্রদের মধ্যে থাকা জেহাদী এজেন্টরা সেই প্রচারটা আরও বেশি করে করছে। সর্বৈব মিথ্যা। সে সঙ্ঘ পরিবারের লোক হলে সঙ্ঘীরা এতদিনে তাকে বাঁচাতে আসত। কেউ আসেনি, আসবেও না সম্ভবত। আসলে গাম্বাট লিবেরালে দেশ ভরে গেছে, তাই এখনও এই হাস্যকর ছাপ মেরে দেওয়াটা কেউ কেউ খায়। ইসলামের সমালোচনা করলেই চাড্ডি হয় না। বিখ্যাত যুক্তিবাদী রিচার্ড ডকিন্সও ইসলামের কড়া সমালোচক, তিনি কি সঙ্ঘী? ইসলামের বিরোধিতা করলেই সঙ্ঘী হলে তো ইজরায়েল থেকে মায়ানমার পর্যন্ত সবাই সঙ্ঘী।

এটা ভিন্ন ব্যাপার যে ইসলামের আগ্রাসন এমন সর্বাত্মক চেহারা নিচ্ছে ক্রমশঃ যে এইবার এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহাজোট গড়ে ওঠা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

তারকের পক্ষে ফেসবুকে স্টেটাস দিলেই নাকি তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে, ইসলামিস্টরা হুমকি দিচ্ছে দেখলাম। এই আমি স্টেটাস দিয়ে রাখলাম, আমাকেও দিল্লিতে এসে হাওড়া পুলিস গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে পারে, আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম এই সুযোগে। বাঙালির এতদূর অধঃপতনের দিনকালে আমিই বা দিল্লিতে প্রফেসরি করে কি করব, তার থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিখরচায় পুলিসি বন্দোবস্তে ফেরা গেলে মন্দ কি!

তারকের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি চাই। বাংলাদেশে ব্লগার মেরে এদের সাহস এমন বেড়ে গেছে, যে এবার পশ্চিমবঙ্গকে জেহাদীদের মুক্তাঞ্চল বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইসলামিস্টদের এক্ষুনি আটকানো না গেলে চলবে না। প্রয়োজনে আমি দিল্লির অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সর্বক্ষণের গ্রাউন্ডওয়ার্ক শুরু করব। যথেষ্ট বাড় বেড়েছে এরা, প্রত্যাঘাত না করলে এরপর রাজ্যটা গোল্লায় যাবে।

আপাতত, তারকের পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়ালাম। বন্ধুরা, আপনারাও দাঁড়ান, একজোট হয়ে।
-------------------------------------
রাজেন, আমি একটা কথা বলি এই প্রসঙ্গে৷ কমিউনিস্টরা ঘোষিত বস্তুবাদী, ধর্মবিরোধী৷ জাভেদ আখতার, কাইফি আজমি এরা গলা খুলে ইসলামেরও বিরোধিতা করেছেন৷ অধুনা ইরফান খানও যথেষ্ট ইসলাম বিরোধী কথা বলেছেন৷ হিন্দুধর্মবিরোধী কথা কেউ বললেই তাকে সিপিয়েম বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়৷ কিন্তু ইদানীং যারা হিন্দুধর্মবিরোধিতা করছে ফেসবুকে, তার একশো শতাংশই হল নমঃশূদ্র বা শিডিউলড কাস্টের লোকজন৷ মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্তরা নিয়ম করে ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে৷  দুর্গা বা কালীকে বেশ্যা, শ্রীকৃষ্ণকে লুচ্চা, দেবতা বা মুনিদের ব্যাভিচারী এসব তকমা যেসব ফেবু পেজ থেকে দেওয়া হচ্ছে বা যারা লিখছে, তারা কেউই কিন্তু সিপিয়েম বা বামপন্থী নয়, তারা তফসিলি জাতিভুক্ত হিন্দু৷ এমনকি সেইসব লেখা যারা লাইক ও শেয়ার করছে, তাদের মধ্যে আমাদের ব্যাচেরই একাধিক RO বন্ধু আছে এবং তারা রাজনৈতিক দিক থেকে মোটেই বাম নয়৷ তাদের বক্তব্য হল যে হিন্দু হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা নির্যাতিত ছিল৷ তাই তাদের এই জিহাদ৷ তুই কত লোকের মাথা কাটবি? মুসলিম ও বামপন্থীদের মাথা না হয় সহজেই কাটা গেল৷ কিন্তু এই দলিত হিন্দুদের? তারপর কি কায়স্থদের? ক্ষত্রিয়দের? আর তারপর ব্রাহ্মণদের মধ্যে দেখতে হবে কার blood কতটা elite, কে কতটা pure descent এর? এসব যারা বলছে, তাদের সঙ্গে আস্তে আস্তে পাঁচ ফুট হাইটের, নাকের তলায় ছোট্ট গোঁফ সম্বলিত এক উন্মাদের মিল খুঁজে পাবি৷ আর ইতিহাস সাক্ষী আছে, যে সে তার দেশের কি হাল করেছিল৷

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি