শালবনির ডায়েরি থেকে

আমি বেলেঘাটার বিলু । দিনভর কাগজ আর প্লাস্টিক কুড়াই । সপ্তাহ কয়েক আগে আমি ডাস্টবিনে একটা ডায়েরি কুড়িয়ে পেয়েছি । কিছুদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় পা পড়ার সুবাদে অল্পবিস্তর় লিখতে পড়তেও শিখেছি । তাই মানুষের সাধারণ অভ্যাস বশেই অন্যের জীবনে
ডায়েরির শুরুতেই পেয়েছি রাজু বলে একটা নাম । ব্যস্ ... ওই টুকুই । কে এই রাজু জানি না । তবে এই অজানা রাজুর অনেক কিছু জানলাম এই ডায়রির পাতা থেকে । ভালো লেগেছে আমার । সম্ভবতঃ রাজু নামের ঐ লোকটারই লেখা হবে এই ডায়েরীটি । হয়তো আপনাদেরও লাগবে । আর বেশি কিছু বললাম না । ওনার ব্যক্তিগত ডায়েরীটি আপনারাও পড়ুন । ভালো মন্দে মিলে উপভোগ করুন ।

এক
-----

অনেক ধানাইপানাই করে অবশেষে বাঁশি বাজালো পুরুলিয়া এক্সপ্রেসের ড্রাইভার । ট্রেন ছাড়বার কথা চারটে বেজে পঞ্চাশ । সিগন্যালিং সিস্টেমের গোলমালের জেরে বিকেল পাঁচটার পরে গাড়ি ছাড়লো । ট্রেনের দুটো গোটা কামরা জুড়ে আমরা সবাই দল বেঁধে চলেছি । আমরা, মানে রাজ্য সরকারের ভূমিরাজস্ব দপ্তরের নবনিযুক্ত আমলাগোষ্ঠী । আমাদের ভিতর কেউ কেউ জীবিকা ও বয়সে নবীন, কেউ কেউবা আমার মতোই ধেড়েখোকা প্রবীণ, অর্থাৎ শেষ বয়সে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল প্রাপ্ত । সকলেরই গন্তব্য শালবনীর ট্রেনিং ক্যাম্পাস । হাওড়া স্টেশনে যখন আমরা একে অন্যের আসার অপেক্ষায় ছিলাম তখন কিন্তু অনেকেই অনেককে চিনতাম না তেমন করে । শুধুমাত্র শালবনী  যাওয়ার দিন কয়েক আগের থেকে আমরা একে অন্যের সাথে কমবেশি মুখোমুখি হই আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিং এ । তখনো তেমন করে আমাদের ভিতর গভীর কোনও যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি