নির্বাচিত কিছু কথা - রাজেন্দ্র

1

কালের বাঁকা বিদ্রুপে আজ
আকাশের মন ভারী ।
ঘোমটা টানা রামধনুতে
কখনো ভাব আড়ি ।
হালকা ভাঙ্গা রোদ পালকে
সেতারিয়া ঝংকার ।
দম্কা হাওয়া ভাসিয়ে নিল
মেঘলা অহংকার ।

2

চিতার আগুন জ্বলছে ধিমি ধিমি,
অহং বোধ ছাই হয়ে  ওড়ে।
খাঁচার পাখি দিয়েছে মেলে ডানা,
মান সম্পদ রইল ঘাটে পড়ে।

3

ভালো থেকো বন্ধু।
যদি আবার সুযোগ আসে,
মুখোমুখি আসার, পাশাপাশি চলার,
অতীতকে ফিরে দেখার ছলে,
আরো একবার খুলে দিও
মনের জানলা, উঁকি মেরো
সুদূর অতীতে।
হয়তো দিনের শেষে,
রাত্রি আসবে নেমে,
তোমার বুকের গভীরে।

4

রাতের ঘন কুয়াশা যখন,
নামে গভীর বুকে,
কোথাও তুমি ঘুমিয়ে থাকো,
উষ্ণতাময় সুখে ।
মনের কোণের একটি পাড়ে,
অনুভবের মুখ,
কোথায় আমি হারিয়ে গেলাম,
আনমনা উত্সুক ।

5

নিকোনো উঠোনে ধূলো মাটি ওড়ে,
ইঁটের ঘরে,টালির চালায় ।
যুদ্ধ শেষে এখন শুধুই ঘরে ফেরা ।
বেলা পড়ে এলো বন্ধু,
এবার শুধু একলা চলো ।

6

নিস্তব্ধ রাত্রি  নামে নিঃসঙ্গতার গভীরে,
কানের পর্দায় ঝিঁঝিরা বাজে একটানা ।
কুয়াশা ঘামে কাঁচের জান্লা জুড়ে,
বালিশের কোলে চোখ বোঁজা দেহে হার মানা ।

7

রাত্রি বারোটা ।
শহরে এখন ঘুমানোর আয়োজন ।
যন্ত্রদানবের ভীড় ক্ষীণ ।
পথের ভিখারী দিয়েছে কাঁথা মুড়ি ।
গুটলি পাকিয়েছে দুটি সারমেয়,
উষ্ণতার খোঁজে ।
যান্ত্রিকতার অরণ্যে নেমেছে রাত্রি ।
ধোঁয়া ধূলো কুয়াশা, মিলে মিশে পেতেছে চাদর ।
শহুরে ক্লান্তি, শান্তির বালিশ টেনেছে মাথার নীচে ।
জেগে আছে শুধু নক্ষত্রের দল,
ভোরের আলোর অপেক্ষায় ।

8

ইঁদুর হয়ে ঘুরে ফিরি,
দাঁতে কেটে চলি লজ্জা ।
দৌড়ে ফিরি প্রান্ত ছেড়ে প্রান্তরে ।
বিষ নেই, তবু কামড়ে থাকি জীবন ।
সেঁকো বিষবাণেও আপত্তি নেই,
হজম করে ফেলি পেটের আগুনে ।

9

বৈধতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ মন,
মগজে খচ্খচ্ করে পাওয়া, না  পাওয়ার চটুল হিসাব ।
দর দাম কষে পাটিগাণিতিক বোধ,
বিরামহীন শঙ্কায় ।
দিন রাত একাকার যুগের কৌতুকে ।
শুধু পড়ে পাওয়া একমুঠো বাসি হাসি, বেহিসাবী শৈশবের ।

10

জীবনে এখনো অনেক বাঁচার বাকী,
নিদ্রা আহার মৈথুনে বেঁচে থাকি ।

11

মাইকে চলেছে " দেশি গার্ল ",
চায়ের ঠেকে, তুফান উঠেছে জমে ।
দেশি-বাংলায়, মজেছে খালি আসর,
ভাঙ্গা চাকে, মধু এসেছে কমে ।
বকুল রাণী একলা দাঁড়িয়ে পথে,
লিপস্টিক ঠোঁটে, লাল সিঁদুরে টিপ ।
মেয়ের স্কুলের, মুদীর পাওনা বাকী,
আসছেনা বাবু, বুকে শুধু ঢিপঢিপ্ ।
পেটের জ্বালা মনের চেয়ে বেশী,
মনের ঘরে, ভাঙ্গা প্রদীপ জ্বলে ।
রাত বেচে, দিন আসা যাওয়া রোজ,
সত্যিই কি সবুরে মেওয়া ফলে ?

12

জানি, অনেক দূরেই আছি ।
তবুও, অজুহাতে ছুঁতে চাই,
ভোরের শুকতারা ।
সকালের শিশির মাখা ঘাসে,
আলতো আদরে ফেলি পা ।
শিশির ভাঙ্গার শব্দ শুনি,
হালকা হাওয়ার তালে ।
ফড়িং মনে ধৈর্য হার মানে,
কুয়াশার সাথে কথা কানে কানে ।
আজকের দিনও একলা যাবে,
কেউ কিছু পাবে, কেউ হারাবে ।

13

দুধ সাদা আঁচল পড়ল খসে,
আকাশের বুকে মাথা রাখা চাঁদ,
এখন রাহুর নজরে ।
সূর্য কখনো পাবেনা তাকে ।
তারারা মোমবাতি মিছিলে,
দলভারী করে, ডাকবে জমায়েত ।
পক্বকেশ মেঘেদের চলবে আঁতলামো,
টেলিস্কোপিক সম্প্রচারে, বাকি সব হেলাবে মাথা,
সমালোচনার দিকচক্রবালে ।

14

রাতের প্রহরী দিয়েছে গলায় দড়ি,
জীবনের শ্লেষ বইতে পারেনি আর ।
ঋণের ছোবলে নীল জীবনের স্বাদ,
স্বপ্ন সাধের পিছল ভাঙ্গা সিঁড়ি ।

আইন, ধর্মের চোখ রাঙানো ভয়,
দোষ চাপানো বড়ই সহজ কাজ ।
সংযম শুধু পাঠ পুস্তকী বুলি,
কথার চালে বাজিমাত সংশয় ।

বাঁচার ফিকিরে ভাবনা ফন্দি শত,
অভাবী মন সুখের স্বপ্ন খোঁজে ।
রাজার প্রীতি রক্ত পানের কল,
মরবে মানুষ সং-এর বিধান মত ।

15

বনে-জঙ্গলে যেতে,
মনে খুব লজ্জা হয় ।
মানুষের অকারণ হিংসা,
বনচারী চেয়ে কম নয় ।
নদী সমুদ্র কোলে গেলে,
ক্ষমা চাই বারবার ।
রোষে ধ্বংসে ক্ষোভে,
শুধু হত্যারই কারবার ।
ধর্ম সংকট নামে,
অধর্ম প্রশ্রয় পায় ।
স্বর্গ-সুরায় হুরপরীরা,
হাতছানি দিয়ে যায় ।

16

আজ এক পরীর সাথে,
হলো কথা কানে কানে ।
এসেছে সে বসন্তের,
প্রথম জলে ভিজতে ।
আকাশ ভাঙ্গা অমৃতধারায়,
সিক্ত তার রামধনু ডানা ।
নিত্য সংসারী হিসাব,
ফেলেছে সে ধুয়ে,
ছুটির আমেজে ।

17

সত্য অসত্য যখন নিলামে হয় কেনাবেচা, কি লাভ, ঝুটো আশার বারোমাস হাল চষে?
মিডিয়ার আস্ফালন - বিদ্রুপে, যদি দল যায় গড়া ভাঙ্গা, কি লাভ প্রতিবাদী কলমটা ঘষে?

18

নদীতে ভাসাও
অবহেলার ভেলা ।
আশায় বাঁচো,
স্বপ্ন দেখো ।
হিসেবের গরমিলে,
সূর্যের ওঠা পড়ায়,
শান্তির জল কেনো ।
হাজার যুগের দেনা,
পাপক্ষয়ে স্বর্গলাভ করো,
পুনরায় সৌধ গড়ে ।

19

আকাশ ভেঙ্গে নেমেছো যেন সবুজ গন্ধ মেখে,
বৌগেনভিলিয়া গড়িয়ে পড়ে তোমার আসা দেখে ।
ঝিরিঝিরি জল, ফোঁটা ফোঁটা পড়ে,
এলোমেলো খোলা চুলে ।
বেতাল হাওয়ায় উড়ছে ধূলো,
হাসির ফোয়ারা তুলে ।

20

আজকে আকাশে মেঘেদের লুটোপুটি,
হাসির দমকে গড়াগড়ি কুটোকুটি ।
হলুদ চাঁদের ঘুম জমে আছে চোখে,
তারা ধোয়া জল মেঘেরা নিয়েছে মেখে ।
রাজমহলের ঘাটে আজ বড় ভিড়,
নদীটা এখানে অশান্ত অস্থির ।
বুকের চড়ায় দখলের অধিকার,
খাওয়া মরা বাঁচা সবার অঙ্গীকার ।
নেতা দালালের ব্যবসা উঠেছে জমে,
মুনাফা বাজারে বেচাবেচি বাড়ে কমে ।
ক্লান্ত চাঁদের মনখানা বেশ ভারী,
বৃষ্টি এখন তোমার সঙ্গে আড়ি ।

21

চাঁদের বুড়িটা চরকা কাটেনা আর,
শৈশব চোখে স্বপ্ন আসে যায় ।
শুকনো পাতায় দাবানলের রেশ,
ধূলোর ঝড়ে স্বপ্ন ভেসে যায় ।

পৃথিবী এখন বিশ্বায়নের ঘর,
ঘরের খোপে তুচ্ছ স্বার্থে ক্ষীণ ।
রক্ত বাষ্পে সূর্য এখন লাল,
পিঠের উপর জমছে পাপের ঋণ ।

এখনো কি মন ভালোবাসতেই চায়,
চাওয়া পাওয়ায় দীন হিসাব ফেলে ?
আয় তবে মন আবার শুরু করি,
অতল খাদে সহস্র ডানা মেলে ।

22

বেনামী বন্দরে যাত্রা করতে চাই,
তবু, বারবার থম্কে যাই,
হিসাবী চিন্তায় ।
দূরবীন চোখে তৃষ্ণার্ত মন,
খোঁজে সবুজ দেশ ।
রিক্ত ভালোবাসা মুখ ঘষে,
রাতের বিছানায়,
অবাক জলপানের স্বপ্নে ।

23

রাত্রির স্তব্ধতায় শুধু ডাকে ঝিঁঝিরা । নীরবতার অন্ধকারে,অধরা আলেয়া ডাকে,"আয় আয়"। মশারীর খোপে, নিজের নিঃশ্বাস পড়ে, প্রহরীর মত । মুহুর্ত চেপে ধরে নাগপাশ বন্ধনে । জেগে থাকা, অসুখী তস্করটা খোঁজে, নরম সুগন্ধী পালক । অচেনা মনে হয় নিজেকে, সময়ে অসময়ে ।

24

সময়ের অনুবর্তে,
জীবনের পাতায় জল পড়েছে,
বদলেছে রঙও ।
চেনা মানুষ অচেনা হয়েছে,
আপন হয়েছে পর ।
দোলনার দোলানিটা,
শুধুই করেছে পরিহাস ।
পৃথিবীটা তবু ঘুরছে,
বিনা তোয়াক্কায় ।

25

সময়ের ডাক,
মারছে হাতুড়ি ঘা ।
দূরে তারাদের,
মিটমিটে হাসি মুখ ।
বিপ্লব আজ
ফসল তুলতে গেছে,
ভোঁতা কাস্তেটা হারিয়েছে
সব সুখ ।

26

পেয়ালার লাল চায়ে,
দেখি নিজের মুখ ।
নিঃশ্বাসে দুলে যায় ছায়া ।
অগোছালো মনে শুধু
অবহেলার মেঘের জল ঢালা ।

27

মন মানেনা, নিয়ম মানার ঘরে,
বেরঙ জীবন, রঙ্গিন পালক চায় ।
রয়েছি বেঁচে নীরস কাঠের মত,
আগুন আঁচে, পেখম মেলা দায় ।
সত্যি সুখের স্বপ্ন, কোথায় মেলে,
জোৎস্না এখন, ফোস্কা পোড়া গা'য় ।
হারিয়ে খোঁজা, হট্টমেলার ভীড়ে,
জীবন রস, ধূলোয় গড়িয়ে যায় ।
তবুও বাঁচি, অবুঝ নেশার ঘোরে,
পুকুর ঘাটে শ্যাওলা জমা শত ।
বাজবে নূপুর, আসবে সুখের সাঁঝে,
কচুরিপানায় জলফড়িং এর মতো ।

28

পৃথিবীর এক প্রান্তে,
দাঁড়িয়ে ছিলাম চাঁদের আলোয় ।
অপর প্রান্তে তারামাখা রাতের আকাশ ।
নদীর বুকে জেগে থাকা চর,
ঘুমিয়ে ছিল, রোদমাখা ক্লান্তি নিয়ে ।
ভেজা বালিতে, আঁচড় কেটেছিলাম ।
না বলা কিছু কথা, হাওয়ার সাথে,
বয়ে এনেছিলো ঢেউ ।
মুছে দিয়েছিলো, শুকানো জলের দাগ ।
এখন শুধুই একলা জেগে থাকা,
কথা রাখবো বলে,
শেষ বার গল্পের অছিলায় ।

29

ঘুম ভাঙ্গা সূর্যের মুখে,
জল ঢেলে দিল মেঘেরা ।
ভিজে মাটির গন্ধ মেখে,
দুলছে হাওয়ায় কাশেরা ।

30

নাই বা জানালাম শুভেচ্ছা তোমায়,
নাই বা ঢাকলাম ফুলের মালায় ।
অবাধ্য মন তবুও ঘোরে বাহানায়,
রূপ রস গন্ধের অতৃপ্ত অছিলায় ।

31

নিজের মুখটা কেউ দেখেনি সোজা,
আয়নায় শুধু উল্টো মুখটা খোঁজা ।

32

নিজেকে গণিকা মনে হয় ।
শরীরী মাদকে শাসিত হৃদয়,
আত্মগ্লানিতে ধর্ষিত হয় ।
দিব্য ধর্মের দোহাই আর কতদিন ?
জীবন্ত আবেগ দগ্ধ হলেও,
উৎসব অন্তহীন ।

33

সমাজ প্রভুর রক্ষিতা,
আজ ঋতুমতী নারী।
ভাঙা তারা যত আকাশ জুড়ে,
মাখিয়ে দিতে পারি ।

34

আমি স্বপ্ন দেখেছি আজ,
ভোর রাত কুয়াশায়,
বাতাসের ঘ্রাণে শুধু বারুদ পেয়েছি ।
আমি দেখেছি সে অমানিশা,
ফুরিয়ে ফেলেছি ভাষা,
শিউলি ছাতিম ঘ্রাণে তোমায় খুঁজেছি ।
ভালোবাসার দিব্যি খেয়ে,
শুধু তোমায় চেয়েছি ।

আছে এখনো এগিয়ে চলা,
কানে কানে কথা বলা,
এক সুর এক তাল, হয়ে মন প্রাণ ।
যদি ভালোবাসা বেঁচে থাকে,
তবু মনে একা লাগে,
বিছানায় কাটে রাত, শুধু গেয়ে গান ।
ভালোবাসার দিব্যি খেয়ে,
শুধু তোমায় চেয়েছি ।

আমি যেদিন ভরসা পাবো,
তোমার স্বপ্নে যাবো,
ভাববো না আর একা নিজেকে নিয়ে ।
যদি সময়টা ফিরে আসে,
হাওয়ার তালেতে ভাসে,
শূন্যতে ফিরে যাওয়া সব হারিয়ে ।
ভালোবাসার দিব্যি খেয়ে,
শুধু তোমায় চেয়েছি ।

যদি আবার সুযোগ আসে,
বসবো তোমার পাশে,
হাত ধরে বলবো, ক্ষমা করে দাও ।
যদি ক্ষমা তুমি নাও করো,
তবুও আগলে ধরো,
দুহাতে জড়িয়ে রেখে, বুকে টেনে নাও ।
ভালোবাসার দিব্যি খেয়ে,
শুধু তোমায় চেয়েছি ।

35

প্রজন্মের পর প্রজন্ম,
ফিরছি খুঁড়ে সুড়ঙ্গ ।
যার ভিতর আশ্রয় খোঁজে মানবতা ।
বিশ্বজুড়ে শুধু জাল,
বিষময় ইহকাল ।
শুনে ফিরি ফেরিওয়ালার কথকতা ।
পরকালের ভাব শূন্য,
পাপক্ষয়ে বাড়ে পূণ্য ।
ভাবের ঘরে মন খোঁজে পতিব্রতা ।
নির্বোধ সদাচার,
জন্জালে উপাচার ।
মরে বাঁচা জীবন পথের অভিঙ্গতা ।

36

ভাবের অনুভুতি ঠেলে,
উঠে আসে ভালোবাসা ।
কলুষিত হয় অধিকার বোধের কতৃত্বে ।
শরীর মনের দ্বন্দ্বে ক্ষুণ্ণ হয় প্রবৃত্তি ।
নিষ্কাম প্রেম, কামগন্ধের গভীরে,
হারিয়ে যায়, বেঁচে থাকার মাদক
নিষ্কাশনে ।

37

ক্লান্তি আর নিঃসঙ্গতা
নির্বাসনের ঊর্দ্ধে ।
গৃহস্থের বিড়ালের মতই
নির্লজ্জ তাদের আনাগোনা ।
যতই পার করি,
গন্ধে গন্ধে ফিরে আসে ।

38

সময়কে পথ ছেড়ে দাও ।
ওর বড় তাড়া ।
গতির আবেগে,
সবকিছু ওর ছাড়া ।

39

গোধূলির বিষণ্ণ আলো, ধূলো মেখে ডুবে গেলো, উদাসীন স্বপ্নের ঘোরে ।
দোলায়িত মন, ভাসে আর ডোবে, অবহেলার কর্কশ চিৎকারে ।

40

প্রেম যদি নাই হবে, নাই হোক, ঘৃণারও কি অবকাশ পাওনি  TUMI কখনো?

41

দারুণ বর্ষা নেমেছিল,
নদী ক্রমাগত ফুলছিলো ।
বাঁধ ভেঙ্গেছিল অবশেষে ।
সূর্য টেনেছিল মেঘের ঘোমটা একটানা ।
নেতারা শুধু ভাসিয়েছিল কথার ভেলা ।
বহুজন হয়েছিলো ঘরছাড়া ।
আজ অনেকদিন পর, আমারো নিজেকে ঘরছাড়া বলেই মনে হয় ।
মন তাড়ানো কথার ডিঙ্গিতে, সাম্য সহজ নয় ।

42

আছো তুমি মনের গহীনে,
আছো তুমি চোখের তারায় ।
ভালোবাসি গোপন যতনে,
টলোমলো জলের ধারায় ।

43

সরে গেল আরো একটা ক্যালেন্ডার, দেওয়ালের হুক থেকে, পড়ে রইল ঘটনার কোলাজ, ভালো মন্দ মিলে ।
ভালোবাসা ভয় ঘৃণা পাপ পূণ্য বোধ, রইল মিশে পুরানো সময়ের কাঁটায়, মুহুর্তের মোমবাতি মিছিলে ।

44

দুইজনে একসাথে, একমনে, একপ্রাণে, বসে পাশাপাশি, চকোলেট  খেতে ব্যাস্ত ।
টানা রিক্সায় উঠে বুক কাঁপে, মন তবু শুধু একসাথে থাকে, ধরে দুইহাত শক্ত ।

45

সকালের ঘুম ভাঙা আধো আলো চোখে, মনে পড়ে তোমায় ।
তুলে নিই ফোন, কাছে পাওয়ার সুপ্ত অছিলায় ।
অপর প্রান্তে অধীর আগ্রহে, অপেক্ষায় তুমি,
কানের পর্দায় শব্দ আমার আসবে কখন ।
কথা চলে কানে কানে অনেকক্ষণ, কেটে যায় প্রহর ।
তবুও অতৃপ্ত মন চষে ফেরে, তোমায় দেখার ছলে, সারা শহর ।

46

রাতের আলোয় মায়াবী সারা শহর, সরোবর জলে টলমলে সব ছায়া।
প্রিয়ার কোলেতে কাটল সুখ প্রহর, আধো উষ্ণতা মেখে চুম্বনরত কায়া ।

47

যখন ছিলাম জড়িয়ে তোমায়
নিবিড় আলিঙ্গনে,
তোমার ঘামে নিলাম মেখে নাক ।
অধরে অধর অধরা রইল না,
"ক্লান্তি" আজ শত হাত দূরে থাক্ ।

48

মন চাইলো না,
একলা আসতে ছেড়ে তোমায় ।
নির্জনে একাকী নিরালায়,
বিশেষণ যত ধুয়ে যায় ।
মনের গহীনে তৃষ্ণা অন্তহীন ।
ভীড়ে আঁকড়ে জড়িয়ে রাখো,
আদিম রিপুতে ক্লান্তিহীন ।

49

দুই বোন, শান্তি ও শৃঙ্খলা,
জমে উঠেছে অনাদায়ী ঋণের মতো, গণতন্ত্রের দাবীতে ।
কেউ পেতে চায় রাম রাজ্য,
কারো কথা, "বামহস্তগত হোক্" ।
কারো শখ, সাইনবোর্ড - দেওয়ালে,
ঝুলুক তার মূল্যহীন ছবি, যে কোনও মূল্যে ।
প্রতিশ্র ুতির রঙিন ফানুসটা,
নতুন বছরের কালবৈশাখী হাওয়ায়,
আছড়ে পড়ে বারবার ।
প্রতিহিংসার শিলাবৃষ্টিতে মন ভেঙ্গে যায় ।
আশা ভরসার খোলা আঙিনায়, জমা হয় চিমনির কালো ছাই ।
কি হবে ভেবে দেশের কথা, যদিনা
সুযোগ সুবিধা পাই ?

50

রুচির তাগিদে পণ করেছি, বিয়ের পণটা নেবো না । "বিশ্বাস করো", বেকার মেয়েকে বিয়ে কখনো করবো না ।
মনটা আমার ভীষণ আঁতেল, লাজ ভালোবাসা একটু নেই । নিজ রোজগারে করে খাবো, তেমন আমার সাধ্য নেই ।
সবার চোখেই দারুণ মানুষ, অহংকারে হামবড়া । সোসাইটিতে ব্যাপক রেলা, বিষদাঁতহীন রাম ঢোঁড়া ।
নিরুপমারা ছিলো; আছে, আর বলিদান চলবেও । লক্ লকে জিভ চাটবে লোভে, দেনা পাওনা বাঁচবেও ।

51

রোজ ভোরে ফুল চুরি করে মেয়েটা
দেখি খোলা জানলায় মুখ রেখে
ভাবি
শোনাবো গোটা দুই কটু কথা
পরনে সালোয়ার পায়ে ক্যাম্বিস জুতো
হতদরিদ্র নয় মোটেই
রোজ থাকি অপেক্ষায়
আজ আসা মাত্রই গলা তুললাম
কোনো সাড়া এলো না
আধোঘুম চোখে গেলাম তার দিকে
দেখতে পেলোনা সে আমায়
ফুল তোলার মগ্নতায়
ইতস্তত বোধ ফেলে দিলাম এক ঠেলা
চমকে ছিটকে গেল সে
ফুলগুলি মাটিতে এলোমেলো
মুখে নেই কোনও শব্দ
শুধুমাত্র বোঝালো ইশারায়
ফুল দেবে তার দেবতার দুটি পা'য়
লজ্জায় চাইলাম নীচে
ফুল সব আমার পায়ের কাছে ..

52

বহুদিন আগে ভুলে গেছিলাম যাকে
সে আজ এসেছিল
ভোর রাতের পাতলা কুয়াশা কেটে
স্মৃতির দরজায় টোকা দিতে
জানতে চাইল আমি কেমন আছি
আমি নিঃশব্দ হাসি ছড়িয়ে দিলাম ভোরের হাল্কা বাতাসে ...

53

ছায়ামাখা মুখে তোলা সেলফিটা আলো আঁধারে ঝাপসা ।
শত চেষ্টাতেও জড়তা কাটেনি,
তবুও ইচ্ছে অক্লান্ত ।
মন জানে, আসছে কালবৈশাখী ।
শিল পড়া জলো ঝড় শেষে,
সব একেবারে শান্ত ।

54

অবকাশ জুড়ে শুধু তোমার ঘ্রাণ, দৈহিক উষ্ণতা অনুভবের বিলাস ।
চোখের তারায়, মনের কোণায়, অধিষ্ঠানের নিরাপদ আশ্বাস ।

55

নিয়মের কারাগারে শাসিত মগজ, মনের ঘরে শান্তনা খুঁজে ফেরে, সংস্কারের ঘেরাটোপে ।
কালের গর্ভে, আবহমান ডোবা ভাসায়, মন্থিত হয় আইন ।
যুক্তির প্রশ্নে নিষ্কাশিত উত্তরে, জ্ঞান বাড়ে ।
তবুও, সামাজিক ঔচিত্যবোধে জর্জরিত মনে, গোপন ইচ্ছা তাড়িত হয় স্বপ্নের আকরে ।
অতৃপ্ত যাতনায়, তপ্ত স্মৃতির বিষাদ ধুয়ে যায়, ঐশ্বরিক ভালবাসায় ।
বোঝেনা অবুঝ মন, কি পায় আর কি হারায় !!!

56

হাজার বছরের ক্লান্তি, চোখের গভীরে খুঁজেছে নিস্তব্ধ রাত্রি ।
জমাট বেঁধেছে রঙিন ছায়া স্নিগ্ধ সতেজ মনে, ফোঁটা ফোঁটা ঘাম মেখেছে দেহের কোণে।

57

নামছে রাত্রি শরীর জুড়ে, দিনের উষ্ণতা উত্তাপ স্তিমিত ।
পাপপূণ্য আবছা কুয়াশা মাখা, পুকুর পাড়ের রোদেরা অস্তমিত ।

58

নীরব মেঘকে কাঁদাবে কেন আর ?
নীলচে আকাশ মুছিয়ে দেবেনা জল,
ভাঙ্গা গর্জনে ডুবছে ভাঙছে ধার,
নৌকার দল হারিয়েছে চলাচল ।

59

পৃথিবীর সমস্ত আলো নিভে যাক্ ।
শুধু জেগে থাক্ নক্ষত্রের দল, এক বুক আগামীর অপেক্ষায় ।
জীবনের সব কালো ধুয়ে যাক্ ।
শুধু রয়ে যাক্ সাতরঙার দল, দিনভোর বসন্ত চেতনায় ।

60

নিজের ছায়ায় বিছানা লাগে ভেজা, তবুও চুপটি করে শুই, অবকাশের উপেক্ষা ফেলে ।
আকাশের শূন্যতা মেখে, উড়িয়ে দিই ভালোবাসা, লাটাইয়ের সুতো দাঁত দিয়ে কেটে ।
শঙ্খচিলের ডানাদুটো আজ ভারী, ওড়ার তাগিদ হারিয়ে গেছে মেঘে, ভরসা এখন মাছের ভাসার ঝুঁকি ।
লুকোচুরি খেলা শৈশব ফেরা মনে, বৃষ্টি এবার দেখাবো তোমায় "টুকি' ।

61

প্রেমের রাতদিন গুলো কাটতো বেশ, তুমি আমি আর আমি তুমিতে সতেজ । ফুরফুরে মেজাজ আর বাতাস মাতানো পারফিউমে, কষ্ট করাটাও লাগতো ভালো, একটু কাছে যাওয়ার তাগিদে । গানের তালে দুলে যেতো মন, কবিতায় ভাসতো আবেগ ।
সময়ের টানে ভালোবাসার রাজপথ এগিয়েছে সরু কানাগলির অন্ধকারে । এখানে ফেলা বাসি আবর্জনার ঘ্রাণে মাথা ধরে আসে । কবিতার শব্দগুলোও যেন এখন বাজারি ফর্দের তালিকা, গানেও শুধুই শব্দের অনুভব । অর্থের যোগানেই নিশ্চিত দায়মুক্তির বিশ্বাস ।
জীবনও এখন তাই সম্পর্কের নতুন দিশা খোঁজে, সংবাদের পাতায় নিষিদ্ধ উষ্ণতার স্বাদে মাদকতা হাতছানি দেয় ।
চাহিদার শিখা অনন্ত সীমাহীন,
পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব অন্তহীন ।

62

হাইওয়ের উপর পড়ে ছিল ছাগলছানাটা । রক্তমাখা দেহটা তোলেনি কেউ ।
রবিবারের বাজারে মাংস কেনার লাইন । উপচে পড়েছে লোভী উৎসাহের ঢেউ ।

63

মাঝে মাঝেই ভাবি, কেমন হতো, যদি ফিরে যেতাম শৈশবের দিনে?
পুরানো বাড়ি, উঠোন, দালান, পুকুর পাড়, গোয়াল আর বাঁশ বাগানে?
ফেলে দেওয়া ক্যালেন্ডারের হারিয়ে যাওয়া দিন ঘুরে ফিরে আসে ।
বিস্মৃতির অতলে মন ডুবে যায়, কিছু কথা জেগে উঠে ভাসে ।

64

আমার মন খারাপের ধারা,
হারায় একলা চোখের কোণে ।
তোমার ঝরার কেন তাড়া,
শুধু জমছো কেন মনে ?

65

যাকে দেখা যায় না, চেনা যায় না, বোঝাও যায় না । গুরুত্ব দেব তাকে ? অযাচিত সামাজিক মনকে ?
নাকি হাতির শুঁড়ওয়ালা যান্ত্রিক অবয়বটাকে ? যার কামময় উপস্থিতি উপস্থে জ্বালা ধরিয়ে নির্বিকার চিত্তে দাঁতের পাটি কেলিয়ে হাসে ।

তোমরা হাসো কিংবা না হাসো, গাল দাও বা না দাও, প্রলাপ ভাবো অথবা অন্য যা কিছু, তাতে শুধুমাত্র লোম ছাড়া আর কিছু উৎপাটিত হবে না ।
চুলকাও । চুলকেই যাও । মাথা হোক বা অন্যকিছু । পৃথিবী কিন্তু একটুও থেমে নেই । আপন রেলায় ও ঘুরেই চলেছে ।

66

পৃথিবীর বাঞ্ছিত মানুষ, দিন প্রতিদিন বঞ্চিত হয়, অবাঞ্ছিত বান্চোতের হাতে, ধর্ষিত হয় মানবতা ।
চোখে ঠুলি বাঁধা আইন, আঁটি বেঁধে বিক্রি হয় শয়তানী হারেমের কোঠায়, জয়ী হয় উলঙ্গ শঠতা ।
বাঁধভাঙা বানভাসিরা, যাযাবর হয়ে ভেসে যায়, দুমুঠো চালের জ্বালায়, চুল্লিতে বেআব্রু দেহ ফেলে যায় ইজ্জতমাখা ধোঁয়া ।
জানি, কবিরা শুধু কবিতায় কেশোৎপাটন করে । কলম রগড়ে দেশ পাল্টানো কি জয়নগরি মোয়া ?

67

সারাটা জীবন পায়ে পায়ে চলে, পথের ধারেতে দেখা ।
হাজার মাথার উন্মাদ ভিড়ে, নিজেকে চেনা একা ।
একলা বসা, একলা থাকা, একলা জাগার ফাঁকে,
মনের গভীরে কেউ লুকিয়ে, স্বপ্নের ঘোরে ডাকে ।
জন্ম থেকেই একলা বাজে অবুঝ একতারা ।
তারার ভিড়ে থাকতে চেয়েও, আলাদা শুকতারা ।

68

বালিমাখা পায়ে এগোলাম জলের টানে, কুড়িয়ে নিলাম মুঠো মুঠো স্রোত নিস্ফল অভ্যাসে । হাত খুলে পেলাম শুধু ফেনা, জল কখন যে গলে গেছে, বুঝিনি ।

69

চোখের তারায় ঝরে পড়ে স্বপ্নেরা। মগজে চিন্তার জোনাকি দপ্দপ্ করে। সন্ধ্যায় ফোটা সুগন্ধিকারা একে একে ডুবে যায় সমুদ্র ঘুমে। রাতের শেষে সবাই মিলিয়ে যায় দিকচক্রবাল কুয়াশায়। শুধু ফেলে যায় একমুঠো ধূপের সুবাস।

70

ইচ্ছে মতো মেলে ডালপালা, বেঁচে থাকাটা কতটা সহজ, বলতে পারো ?
যদি সার জল না পাও, যদি কাটাকুটিতে হেরে যাও, তবুও কি হাসতে পারো ?
যদি মাটি ফেটে আগুন হয়, যদি জলের মন্ত্র না জানো, তবেও কি তুমি টিঁকতে পারো ?
যদি বেঁচে থাকা প্রহসন হয়, তখনোও কি তুমি বলবে, "আত্মহনন ভালো নয়" ?

71

আজকাল আর,
দেশের কথা, দশের কথা,
ভাবতে ভালো লাগেনা ।
জানো বন্ধু, আমার মাথায়
পলিটিক্স ঠিক আসেনা ।
রাজ্য জুড়ে মারামারি,
সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি,
উন্নয়নে তেল মশলা
শুকনো লঙ্কা লাগেনা ।
জানো বন্ধু, আমার মাথায়
পলিটিক্স ঠিক আসেনা ।
দলাদলি অরাজকতা,
তঞ্চকতা স্তাবকতা,
অকর্মার বিশ্বকর্মা,
মন আর স্বপ্নে ভাসেনা ।
জানো বন্ধু, আমার মাথায়
পলিটিক্স ঠিক আসেনা ।
লাল সবুজ গেরুয়া রঙে,
ঝুটো প্রচার নানা ঢঙে,
মিডিয়ার হম্বিতম্বি,
আর যে ভালো লাগেনা ।
জানো বন্ধু, আমার মাথায়
পলিটিক্স ঠিক আসেনা ।
গরীব গুর্বো রয়েই গেল,
অনাহারে কিছু কমল,
বেকারত্বে বন্ধ্যা রাজ্যে,
সুখ শান্তি হাসেনা ।
জানো বন্ধু, আমার মাথায়
পলিটিক্স ঠিক আসেনা ।
যতই ভাবি ভাববো না,
দেশ রাজনীতি একটুও না,
তবুও ঘুমে চিন্তা আসে,
মন যে কেন মানে না ।
জানো বন্ধু, আমার মাথায়
পলিটিক্স ঠিক আসেনা ।

72

নিজের একান্ত অবসরে ভেসে ওঠে কিছু মুখ । যারা আমার সময় কাঠামোয় আবদ্ধ । একসাথে আমরা কাটিয়েছি অনেকটা প্রহর । ভালো মন্দ মিলে মিশে গেছে । অনেকগুলো দিন পার করে এসেও মনের কোণে হুকবদ্ধ সেই মুখগুলো । জানি, অনেক খানি দূরে আছি । হয়তো তাদেরও মনে আমি জড়বৎ বেঁচে আছি । সময় আর মুহূর্তগুলো ধরা আছে কালের গর্ভে, আনন্দের অসীম আলোয় । তারা যেখানেই যেমন ভাবে থাক, ভালো থাক । যদি সময় সুযোগ আসে মুখোমুখি আসার, সানন্দে যেন বুকে টেনে ধরি তাদের একটি বার ।

73

ভাবছি,
বিয়ে করবো আবার ।
যৌতুকে চাইবো,
একটা গোটা দেশ ।
আমার আগের বউ
ভেগে গেছে, সম্পর্ক সব শেষ ।
আর, তার সাথে যৌতুকে পাওয়া আগের দেশটাও ।

74

কোনও এক সময় ভাঙ্গা পড়েছিল তার স্টল, এখনও জোটেনি তার স্থায়ী কোনও ঠিকানা ।
মন্ত্রভরা মাদুলির জোরে, করছে সে জনসেবা বেহিসাবী জনতার, স্বল্প কিছু মূল্যে ।
চলমান বা অপেক্ষমান ব্যস্ত মনের দৃষ্টি আকর্ষণেই তার কেরামতির সিদ্ধিলাভ ।
উস্কোখুস্কো চুল আর একমুখ খোঁচা খোঁচা দাড়ি নিয়ে কখনো সে প্ল্যাটফর্ম, কখনো বা রাস্তায় ।
দিনভর কথার ম্যাজিক বুলিতে লোকজন চমকায় ।

75

শরীর যাচ্ছে ভেঙ্গে,
বালির বাঁধের ঢঙে,
ধরে রাখতে ঢেলেছিলাম জল ।
ষড়রিপু আঁকড়ে রাখে,
অভাবী চেতনার রঙে,
চোখের কোণে স্বপ্ন টলমল

76

তোমার গায়ে খুঁজি, বকুল ফুলে শিশির নামার শব্দ, কোলাহল যত এলোমেলো খোলা চুলে ।
রূপকথারা বেরিয়ে এলেও জব্দ, বইয়ের পাতা খুলে, মুহুর্তের অবুঝ ভুলে ।

77

সহসা সহস্রারে ঝরে অমৃত ধারা,
বয়ে চলে বেত্রবতী দুই পাড় ধুয়ে,

সুখভারে মুখ গুঁজে দেহ দিশাহারা,
ভাঙা পাড়ে খেলে জল যায় পা ছুঁয়ে,

78

আমি তোমার নাম আগুন জ্বেলে লিখেছি ।
তুমি আমার নাম বরফ ঘষে লেখো ।

79

সময় ফেলে এসেছি, মুহুর্ত নয় ।
আনন্দ ঢেলে এসেছি, মানুষ নয় ।
মুহুর্তের অবসরে ভেসে ওঠে মুখ,
সঙ্গ পেতে মন আনন্দে উৎসুক ।

80

পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে গেছে দুর্লভ কিছু মুহুর্ত, যুদ্ধের রক্তমাখা বর্মে সৈনিকের ঘামের গন্ধে মিশে ।
হেরে গেছে মানবতা বারবার, তরবারির অমোঘ নিশানায় ।
পরিচয়হীন ভবিষ্যতের যাত্রাপথে, কলম্বাসের জাহাজ ভিড়েছে পাড় ভাঙ্গা বন্দরে ।
কম্পাসের কাঁটায় ধর্মগ্রন্থ ছড়িয়েছে বর্বর অন্ধকার গ্রহে ।
ইতিহাস বুঝিয়েছে, সভ্যদের আছে শাসনের অধিকার, ভিন্নতর সংস্কৃতি যতই চাক প্রতিকার ।
এখনো চলবে এই ইতিহাসের অনুগমন, পাতার পর পাতা জুড়ে থাকবে শুধু হেরে যাওয়ার গল্প ।
রাজারাই শুধু জানাবে বার্তা, এগিয়ে চলার প্রশ্নে বাকিরা এখনো অল্প ।

81

পৃথিবীটা কি হয়ে উঠত আরো অনেক বেশী সুন্দর, যদি ঈশ্বরের প্রেমিকা থাকত ?
মৃত্যুর ঘ্রাণ কি মুছে যেত দিন প্রতিদিন, যদি সমুদ্রের ভাঙা ঢেউয়ে ধুয়ে যেত বাসি রক্তের দাগ ?
এমন আরো অনেক প্রশ্ন তুমি করেছিলে আমায়, পাহাড়ি ঝরনার জলে নেমে ।
উত্তরগুলো ভেসে গেছে ঝরনার সাথে সমুদ্রের পথে, আরো কিছু প্রশ্ন কুড়োতে কুড়োতে ।

82

পায়ে পায়ে বৃষ্টি এলো আমার ঘরে,
উঠোন ভরা ঘোলাজল টলমল ।
মাটির দেওয়াল গাঁথনি ধুয়ে গেছে,
অভাবী চোখে স্বপ্ন ছল্ ছল্ ।
গাছেরা আজকে বড়ই রোম্যান্টিক,
ঝড়ের তালে হাওয়ায় দোলায় হাসি ।
খেলতে হাসতে বাঁচতে চায় যে ওরাও,
জীবন, তোকে বড্ড ভালোবাসি ।

83

একদিন মাটির ভিতর, যাবে সবার বাড়ি ঘর, দেহটাও পাবেনা কোনো ছাড় ।
বুঝেও অবুঝ দেমাক ঝগড়া করে, তোমার আমার ঝুটো অহংকার ।

84

জানতাম তুমি আসবে ।
দাঁড়িয়েছি রোজ একটিবার হলেও, আয়নাকে সামনে রেখে ।
মনের ভিতরে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর চিরুণী তল্লাসে খুঁজেছি তোমায় সর্বহারা মগজে।
মাঝে মাঝে উঁকি মেরেই বেপাত্তা হয়ে যাও, বিবেককে সাথে নিয়ে ।
প্রহসনের পালায় হাততালি কুড়াও, নিজের কাছে নিজেই ফুরিয়ে যাও ।
শুধু ফেলে যাও এক আকাশ বেহিসাবী অপেক্ষা ।

85

যতই তুমি আঘাত কর আপনজন,
আবার ফিরে ঘুরে দাঁড়াই প্রতিক্ষণ ।
একদিন তো ছেড়েই দেব এই জীবন,
তার আগে হার মানবেনা মন বিলক্ষণ ।

86

ছোটোবেলার মেঘ উড়ে এলো
ছোটো ভেলায় ভেসে ।
বললো হাল্কা হেসে,
"বৃষ্টি কত দেখবি পাগল
সময় বয়ে চলছে ।
মস্ত দেশের ব্যাস্ত ভোটার
সোনার বাটি চাইছে ।
মরুভূমিতে জল পাবিনা
জিভ মেলে ঠোঁট চাট্ ।
চাতক হয়ে মরবি কেন
কর্ কিছু লুটপাট্ ।
আজব দেশে গরীব থেকে
কিসের দেমাক তোর ?
টাকার জাহাজ ভাসছে জলে
চিটফান্ড ভুঁইফোঁড় ।
সরস্বতীর কলম বয়ে
বিদ্যে কেন চাইবি ?
ধনলক্ষীর সেবা ভান্ডে
রাজার মতন বাঁচবি ।
একুশে আইন বোকাদের ফাঁস,
সুবিধাবাদের নয় ।
ক্ষমতার ভারে পদানত প্রজা
রাজদন্ডের জয় ।

87

ফেসবুকিয় ক্যাল্শিয়ান্ মামনি
পোস্ট করলেন টাইমলাইনে -
বর্ষা নাকি ভারি ঘ্যান্ ঘ্যানে,
করা যাচ্ছেনা আউটিং ।
মেঘেরা বড়ই বাড় বেড়েছে,
পিলে চম্কানো শাউটিং ।
শুনে মাথায় উঠল অন্ডকোষ,
বলে কি ঝিঙ্কু মামনি আমার !
যা পারবে, পোস্ট করে দেবে,
একি খিট্কেল কদাচার !
মামনিকে যথাসম্ভব পোলাইটলি,
গুড়ের বচনে আরো মধু ঢালি,
বললাম, এই যে বন্ধু শোনো,
এই কথাগুলো বরাবর জেনো -
বর্ষার জলভরা মেঘের আবেদনে,
মহাকবি কালিদাসও লিখেছিলেন
মেঘদূত, অম্লান সহাস্য বদনে ।
না পেলে বর্ষা, প্রকৃতি হারাবে
ভরসা, সবুজও হবে ধূসর ।
তখন ঊষর মরুভূমিতে
গীতবিতান খুলে প্রেম
কিংবা প্রেত চর্চা কোরো,
পাবে অখন্ড অবসর ।
না পেলে বর্ষা, শরৎও
মুখটা দেখাবে না,
কাশফুলও দোলাবেনা ঝালর,
শিউলিও ঝরবে না ঘাসের উপর ।
সব কবিরাই বর্ষা রসে সিক্ত,
বিনা রসে তারা তিক্ত ক্ষিপ্ত রিক্ত ।
ফেসবুকিনী মামনি প্রেমময়
বসন্তের ভাষণ দিলেন এবার ।
শেষ চেষ্টা হান্লেন আমায়
চিৎপটাং করবার ।
মামনিকে বললাম, শোনো আবার,
ষড় ঋতুর সবাইকে মোর দরকার ।
বসন্ত অবশ্যই ঋতুরাজ বটে,
এতো সবারই আছে ঘটে ।
তবুও তো বসন্ত অতিথি ক্ষণিকের,
মনের চাকে জমা প্রেমের মতো ।
বাকি ঋতুদেরও বইতে হবে
সতী ঠাক্রুণ দ্রৌপদীর মতো ।

88

তোমরা আমার কাজের সমালোচনা করো অথবা সেলিব্রেট, আলোমাখা ধাঁধাঁয় চাইনি আমি গালিচা কিংবা কার্পেট ।
বোকা বাক্সের টি.আর.পি.র, হোক্ ওঠানামা বেআক্কেল শেয়ারের মত, আধাঁরি নিশ্চয়তায় ভাবনারা টোকা দেয়, চিন্তার দরজায় কত শত ।
সেলিব্রিটি নাই বা হলাম, ফেলিব্রিটি হলেই বা মন্দ কি, পাবলিকের উৎকট পাগলামো না সওয়ারও ভাগ্যটাও বা কম কি ?
তবুও তো ভালো আছি, ভুগিনা আমি সেলফিআনায়, অসুন্দর কুৎসিতের কাব্য লিখি আর কাটি, মসীর আধাঁরি যাতনায় ।

89

হতাম আমি জলে শোওয়া ভেজা ঘাস । বয়ে যেতে কি তুমি, অবিরাম ধারাপাতে বারোমাস ?
হতাম আমি ধানক্ষেতের ঘোলা জল । তিরতিরে হাওয়ায় বইতে কি তুমি, কাঁপতে টলোমল ?
হতাম আমি আছাঁটা বুনো এঁদো পাঁকে । আসতে কি তুমি এলোমেলো চুলে হাঁড়ি কাঁখে ?
হতাম আমি বেলা শেষের লাল আলো । দেখে কি আমায় বলতে চেয়ে খুব ভালো ?

90

বেআব্রু
বেআব্রু দেহে, বেআব্রু মনের, বাক্রুদ্ধ জানলায়, অচঞ্চল মোহে, অসম্ভব বিশ্বাসে, আমি শুধু খুঁজেছিলাম তোমায় ।

91

যিশুকে মারা যায়নি, যিশুকে মারা যায়না ।
পেরেক ঠুকে ঝুলিয়ে রেখে রক্ত ঝরানো যায়, যুদ্ধে জেতা যায়না ।
যিশুকে দেখি রোজ প্রতিবাদী পোস্টারে, ভয়হীন ব্যানারে ।
যিশুরা রোজ ঝরছে, আবার যিশুরা ফুটছে ।
মোমবাতি জড়ো মিছিলের ভিড়ে হায়নারা ভয় পাচ্ছে ।
তৈলচিত্র স্ট্যাচুর যিশু রাস্তায় নেমে হাঁটছে ।

92

দুলতে দুলতে ছুটছে আমার ট্রেন, পাশের সবুজ মাঠ গেছে জলে ভরে । কিছু গাছ আছে জেগে মাথা তুলে । ছুটছে আমার ট্রেন দুলে দুলে ।
বন্ধুর পথের সাথে বন্ধু হওয়া ভালো, কেউ না দিলে ঠাঁই, আছে ওরাই । তাঁবু ফেলে বসে যাও ভবঘুরে দলে । দেশে থেকেও ভিন্ দেশি তারা, খোলা আকাশ নীচে বিনিদ্র জাগে যারা মহাস্থবির বেশে ।
গাছের ভিড়ে সবুজ রঙ মেশা গিরগিটিটা রঙের হোলি খেলে স্বকীয় নিয়মে । কেউ কেউ ধরলেও বাকিরা এখনো গ্যাস বেলুনে চড়ে চন্দ্রায়নের স্বপ্নে মশগুল । দ্বিধা ভাঙা মন সুখটানে আকুল ।
চিন্তা ফেলে ভেসে ওঠে মন জলোচ্ছ্বাস ত্রাসে সব ভুলে, ছুটছে আমার ট্রেন দুলে দুলে ।

93

জলে ডোবা খোলা মাঠে, আল গুলো শুধু জেগে । জলের উপর পড়েছে মেঘের ছায়া । মনে পড়ে মার্বেল করা ঘরে, বসে চুপচাপ, মুখোমুখি আমি আর ছায়া ।

94

আজকাল গেরুয়া মোড়া তপস্বীও ফট্ ফট্ করে তোলেন নিজস্বী ।
ভাবলেও অবাক হই, কৃচ্ছসাধন ওয়ালারা গেলেন কই ?

95

খুঁজে ফিরি আমার দেশটাকে ।

খাল, রেল লাইনের ধারে গজিয়ে ওঠা
বস্তির আনাচে কানাচে,

প্ল্যাটফর্মে, শহরের ফুটপাথ জুড়ে,

ভিক্টোরিয়া, সেন্ট্রাল পার্কের গাছের
নীচে, ছাতার তলায় ।

শপিং মলে, নাইট ক্লাবের মায়াবী
আলোয় ঘুরে ফেরে ক্লান্ত চোখ ।

কানে বাজে স্কুলে পড়া দেশের কথা,
দেশ গড়ার কারিগরী স্বপ্নে মন বিভোর
হতে চায় ।

চন্দ্রায়ণের চাকচিক্যে গর্বিত ছাতি, অনুন্নয়নের
অবিচারের বঞ্চনায় নেমে যায় গোড়ালির নীচে ।

শোষণ অপশাসনের বল্গাহীন দৌড়ে, অজুহাত
অনুযোগের নির্লজ্জ প্রতিযোগিতায়, স্বপ্নের দেশে
সূর্যাস্ত নেমে আসে ।

রাতের অন্ধকারে অচেনা লাগে মানুষ ।
জল মাটি বাতাসে ভাসে মৃত্যুর হ্রেষা ।

লাল মাটির কাঁকর পাথরে, শাল পলাশের বনে
বন্দুকের নল গুমরে মরে রাজরোষের তন্ত্র মন্ত্রণায় ।

মিড্ ডে মিলের খুদকুঁড়ো খেয়ে বেঁচে থাকে
আশা, শারদের শেষে ঢাকের কান্না শুনে ।

শৈশব, নারীত্ব খোলা বাজারে ওঠানামা করে
চাহিদা আর সুযোগের পাটিগণিতের হিসেবে ।

স্বপ্নের ফেরিওয়ালারা রাজনৈতিক রূপকথার
হকারি করে মেঘের আড়ালে ।

দেশ কি তবে স্বপ্ন দিয়েই তৈরী ? স্মৃতি দিয়েই
ঘেরা ? সত্যিই কি এমন একটা দেশ আর কোথাও
পাবোনা খুঁজে ?

বিভেদ বেড়েছে, আবেগ কমেনি ।
শক্তি বেড়েছে, শান্তি আসেনি ।

অজানা মানুষ, অচেনা দেশ ।
যতই ভাবি, ততই ক্লেশ ।

96

চিলের ধুসর ডানা লেগেছে মনে,

পাখা মেলে বসে আছি একা ।

রোদ মাখা পাকা ধানের ঘ্রাণে,

অতীতের যুগে ঘুরে ফিরে দেখা ।

97

আকাশের দিকে চাইলে
বড়ো ছোটো মনে হয় সবকিছু ।

হারিয়ে যেতে চায় মন,
উড়ে যাওয়া পাখির ডানায় ।

মেঘের ভিড়ে লুকোচুরি খেলার
বাসনা, জেগে ওঠে আবার ।

বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা উঁকি দেয়
আরও একবার ।

98

তোমার রথের চাকা হতে চাই একবার ।

বিজয় মিছিলে ছোটার অঙ্গীকারে ।

99

আমার ঘুড়ি আকাশ ছুঁতে চায় ।

লাটাই থেকে যতই সুতো ছাড়ি ,

খোলা আকাশ মেঘে ছেয়ে যায় ।

বৃষ্টি, এখন তোমার সাথে আড়ি ।

100

জীবন থেকে একটু খানি পাওয়া,

এর বেশী আর কিছুই নয় ।

জীবন যদি কখনো যায় থেমে,

মরতে মরতে বাঁচার ইচ্ছে হয় ।

101

আকাশ জুড়ে মেঘের ঢল,

নদীর ঢেউএ ছলাৎ ছল ।

কাঁপে বাতাস থরো থরো,

ভাঙ্গা বাদল  "ঝরো ঝরো" ।

102

ঘাসের গোড়ায় পিঁপড়ে চলে ফেরে ।

ঢাকের কান্নায় গুমরে ওঠে মেঘেরা ।

স্তব্ধ বনে ঝিঁঝিরা ডাকে, অবিরাম

ধারাপাতে স্নাত হওয়ার অপেক্ষা ।

103

এখনো জীবনে অনেক বাঁচার বাকি,

ঘাসের মাথায় জমা শিশিরের মতো ।

ফেরার তাগিদে জন্ম নিতে থাকি,

ফুলের কোলে পরাগ রেণুর মতো ।

104

মারো, চাবুক মারো ।

এতো বার মারো, যাতে

চাকা চাকা দাগ বসে যায় ।

মারো, আরও মারো ।

এতো বেশী মারো, যাতে

ভয়ে মরা দূর হয়ে যায় ।

105

দেহের খাঁচায় মন পাখির বাসা,
জন্ম থেকেই সে বন্দী ।
সমাজ সংসারের জটিল আগলে
ছটফট করে তার বাউল স্বভাব একতারা।
ফকির হতে চায় সে,
সব বিলিয়ে নিঃস্ব হয়ে।
তবুও মুক্তি পায়না,
গুরুর খোঁজে সে ছুটে ছুটে ফেরে, ছটফট করে,
গুরুরা আসে, চলেও যায় ..
বাউল পাখি রয়ে যায়,
সে বন্দী হয়েই আটকে থাকে
দেহের খাঁচায় ।

106

মনের গহনে দ্বন্দ্ব ঘুরে ফেরে,
নাস্তিক আস্তিকতার গর্ভে ।

জন সমুদ্রে পথ হারানো নাবিক মন,
ওঠা নামা করে ।

প্রশ্ন আসে, উত্তর নয় ।

আবেগ টানে, যুক্তি নয় ।

চাওয়া পাওয়ার বোধে নির্বোধ মন ।

অকারণ বাঁচা আর কতক্ষণ ?

107

মন পাখিটা উড়তে চেয়ে
মেলে ছিলো ডানা,

রঙিন পালক লাগিয়ে ছিলো,
কেউ করেনি মানা ।

আকাশ জুড়ে মেঘের সারি,
বাতাস ভরা সুর,

ফুলের ঘ্রাণে উতল আবেগ,
মাতলো অচিন পুর ।

মনের পাখি হারিয়ে গেলো,
পাগল বাঁধন হারা,

বৃষ্টি এলো, উড়ল ধূলো,
বাজলো একতারা ।

108

পাহাড় জুড়ে সারি সারি পাইন,
যেন খোঁচা খোঁচা একমুখ দাড়ি।
বিকালের সূর্য নীচে নেমে এসেছে,
আলো তার মৃয়মান।
আরো কিছুটা সময় কেটে গেলো,
ঘনিয়ে এল অন্ধকার ।
সূর্যটা কখন যেন
হারিয়ে গেল অতলে,
অজানা গহ্বর এর মুখ থেকে
শেষ বারের মতন ভেসে এল
আবছা আধাঁরি আলো।
আকাশের বুকে প্রদীপ গুলো
একে একে জ্বলে উঠলো।
অন্ধকারের নিস্তব্ধতাকে গ্রাস করল
ঘন কুয়াশার চাদর।
ঢেকে গেল ছোট বড় বাড়ি,
খাদ ভরা পথ, গাছপালা।
শুধু শোনা গেলো
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক,
আর নাম না জানা
এক ঝরণার অবিশ্রান্ত আহ্বান।
আমি জেগে রইলাম
তাদের স্বাক্ষর বহন করে
অনাহূত ডাকের প্রতীক্ষায়।

109

তোমার হাত ধরে
অতল জলের শুক্তি
বেছে আনব।

বালুকা বেলায়
ঝাউয়ের ছায়ায়
দুজনে এক হব।

জঙ্গলের আধাঁরে
গাছ বাড়িতে
রাত কাটাবো।

পাহাড়ী ঝরণায়
মন হারিয়ে
করব স্নান।

থাকবো বিজন নির্জনে
নীরবে নিভৃতে
একত্রে দুজনে।

থাকবে তুমি
আমার মনে,
আর আমি তোমার।

110

মন আমার
বাউল হয়ে,
ধরল একতারা।

চেনা দেহ
অচেনা হল,
চোখে জলধারা।

111

বিধির বিধান দীর্ঘ থেকে
দীর্ঘতর হয়, যদি লক্ষ্য
হও বিধাতার ।

সবাই জানে; দিতে চরম
তিরস্কার, একমাত্র তারই
আছে অধিকার ।

জীবন এক পুরস্কার,
স্বাধীন ভাবনা চিন্তার,
নয় নিয়মের উপাসনার ।

লক্ষ্য যখন মোক্ষ লাভের,
নয় অবাধ ভালোবাসার,
আশীর্বাদ পাবে বিধাতার ।

112

কালো কালির,
কালো দেহে,
কালো সুখে,
কাম চায় ।

কালো মেয়ের,
কালো চুলে,
কালো ঘ্রাণে,
রাত যায় ।

113

শব্দ শুনি ,

পদাতিক অশ্বারোহীর
প্রহর গুনি,

আমি শুধু নিজের ভাঙ্গার
শব্দ শুনি ।

114

দু-দন্ডের শান্তির আশায়
খুঁজে ফিরেছি অনেক পথ।
ধুলি-ধুসর প্রান্তরে,
শ্যামল-সবুজে চরেছি অনেক।

নীল আকাশের বুকে,
নক্ষত্রের আবছা আলোয়,
বাতাসের শব্দে, ভ্রমরের গুঞ্জনে
চেয়েছি তার সঙ্কেত।

পাখীর কলতানে,
বসন্তের দখিনা বাতাসে,
কুয়াশার হিমেল পরশে,
অনুসরণ করেছি তাকে নিঃশব্দে।

শরতের শিউলির ঘ্রাণে,
কাশফুলের দোলায়,
ঢাকের কাঠির তালেও
পাইনি তার সম্মতি।

নদীর বুকে জাগা চর,
মাঝি মাল্লার টানে,
মাছের জালের জটিলতায়,
পাইনি তার ঘ্রাণ।

শঙ্খচিলের মেলা ডানায়,
বিকালের স্নিগ্ধ মায়াবী আলোয়,
চৈতির সোনালী ধানের শিষেও
তার অবাক নিরবতা।

সমুদ্রের লোনা জলের পাড়ে
শুয়ে থাকা বিদেশিনীর
উন্মুক্ত শরীরের ঘামেও,
শূন্য তার আবেদন।

তবুও সন্ধান করছি তার,
সব কিছুতেই তাকে
অনুভব করার অতৃপ্ত বাসনায়
জেগে রয়েছি অতন্দ্র।

জানি, একদিন
এই সন্ধান প্রবৃত্তি
নিবৃত্ত হবে, শুধু
রয়ে যাবে সন্ধানের ইতিহাস।

115

হ্রেষারব বাড়ছে,
অশ্বখুর ছুটছে ।

আরোহীর মুঠোবন্ধে
তরবারি আসীন ।

খুরের ঘায়ে
উড়ছে ধূলো,
দিগন্ত মলিন ।

প্রজা রোষ
রব তুলছে,
অশ্বারোহী চলছে ।

116

অধিকার সচেতন
আত্মসুখীর দল
নেমেছে রাজপথে ।

মুখোশের আড়ালে
বিদ্যুৎ খেলছে
চোখের তারায় ।

মায়াবী মারীচ
চরছে লোভের
বাতি জ্বেলে ।

কখন পতঙ্গ
ধরা দেবে
আগুন খাঁচায় ।

117

মানুষ ভুলে যায় ।
যেটুকু শিশির পড়ে
ভোরের ঘাসের মাথায় ।

মানুষ ভুলে গেছে ।
প্রয়োজনের বেশী না
পেলেও বেঁচে আছে ।

মানুষ ভুলে যাবে ।
হত্যার মলিন দাগ
সময়ে মিলিয়ে যাবে ।

118

উপর দিয়ে কত পা হেঁটে যায়,

কত চাকা গড়িয়ে যায়,

কত জল বয়ে যায় ।

একলা আমি শুয়ে থাকি,

জাগা থাকি রাজপথে,

রাজার পায়ের অনন্ত অপেক্ষায় ।

119

লাল মাটির লাল স্বপ্নে, পাথর বালির চড়া,
কাঁটার ঝোপে, বুনো ফুলে, কামনার ঘ্রাণ ভরা ।

আকাশ বাতাস বড়ই উদার, শালের সবুজ ঘর,
মোরাম ঢালা কাঁকর পথে, মনের আপন পর ।

স্বপ্নে ভাঙ্গা মাটির ঘরে, লাল পলাশীর মেয়ে,
জলের তৃষ্ণা হারিয়ে গেছে, পাতালের পথ বেয়ে ।

আকাশে বাদল, বাতাসে বারুদ, পাথরে কঠিন প্রাণ,
অভাব, মরণ, পেটের জ্বালায়, চোখের জলের গান ।

বুকে ধ্বক ধ্বক জ্বলছে চিতা, বিপ্লব তুমি কই?
দারুণ হবে, আমিও যদি আগুনপুত্র হই ।

120

ঘরের জানালা বেয়ে
সূর্যের ম্লান আলো
নেমেছে বিছানায় ।

বহু আলোকবর্ষ দূরে
তার যাত্রা শুরু
স্বপ্নের আকাশগঙ্গায় ।

ঘুম ভাঙা সকালে
মনের প্রতি পরতে
গরম চায়ের পেয়ালায়,

একাকী নির্জন দ্বীপে
নিঃশব্দে বসে আছি
শুধু তোমারি অপেক্ষায় ।

121

পাথরে ঘষা
ফুলকি কণা,
বাতাসে বাতাসে ওড়ে ।

কুড়ানোর টানে
পথ ছুটে চলা,
নেশার আদিম ঘোরে ।

122

স্বপ্ন যখন
হারিয়ে যায়
মহা মৌনের পথে,

স্বেদ সৌধ
নির্মিত হয়
মহাকালের রথে ।

123

পাখার পালকে
ঢেকেছে আকাশ,
ঢেকেছে ধানের শিস ।

রোদেলা আগুন
জ্বালিয়ে দিয়েছে,
দেহ কামনার বিষ ।

124

একটা তারা
পড়লো খসে
তোমার চোখের তারায় ।

ভেজা গাল
শুকিয়ে গেল
অবাক জল ধারায় ।

125

চোখ বন্ধ করলে,
আকাশ নেমে আসে
মাথার উপর ।

লাল নীল সবুজেরা,
খেলা করে
বন্ধ  চোখের তারায় ।

সাদা বক
দল বেঁধে ওড়ে,
নীরবতা ভেঙ্গে ।

বার বার
বাঁচতে চাওয়ার,
অফুরাণ তৃষ্ণায় ।

Comments

Popular posts from this blog

মহায়ণ

মরণ vs যৌনতা

আনা কড়া গন্ডা ক্রান্তি